সৌদি আরবের মাহাইল গেরা জেদ্দা রোড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের আকতার হোসেন (৩৫)।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সৌদি স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে (বাংলাদেশ সময় গভীর রাত) এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আকতার হোসেন লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেহের আলী মুন্সির পাড়ার মোহাম্মদ শফির ছেলে।
এদিকে প্রিয়জনের মুখ শেষবারের মতো দেখতে পাওয়ার আকুলতায় এখন তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অপেক্ষায়। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, একটু আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে প্রায় ১২ বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন আকতার হোসেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তার সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে।
তার মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা। দেশে তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে তারা এখন বাকরুদ্ধ । স্বজনদের আহাজারি থামছেই না, সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরা।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি অনেক বেশি থাকায় সেটি আকতারকে চাপা দেয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ধাক্কা লাগে এবং সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আকতারের লাশ বর্তমানে সেখানকার একটি সরকারি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মোহাম্মদ এহেসান বলেন, ‘শুনে খুবই মর্মাহত হয়েছি। আকতার আমার এলাকার ছেলে, খুব ভালো মানুষ ছিলেন। পরিবারের জন্য, সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য প্রবাসে গিয়েছিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নেয়া কঠিন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আকতারের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার জন্য তার বড় ভাই মোক্তার হোসেন শনিবার সকালেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। পরিবার-পরিজন এখন কেবল পথ চেয়ে আছেন, কখন তাদের প্রিয় আকতারের নিথর দেহ দেশে ফিরবে এ অপেক্ষাতেই কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।’