আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
দীর্ঘসময় বাংলাদেশীদের জন্য প্রফেশনাল ভিসা অনুমোদন কিছুটা মন্দা ছিল। ২০১৫ সালের আগে ক্যাটাগরি ১ এবং ২-এর প্রফেশনাল ভিসায় অসংখ্য বাংলাদেশীর মালয়েশিয়াতে কর্মসংস্থান হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন অভিযোগে বাংলাদেশীদের জন্য ঢালাওভাবে প্রফেশনাল ভিসা অনুমোদন স্থগিত হয়ে যায়। এবছর আবারো বাংলাদেশী দক্ষ জনশক্তির জন্য ক্যাটাগরি ৩ প্রফেশনাল ভিসা উল্লেখযোগ্যভাবে চালু হয়েছে। মালয়েশিয়াতে স্বনামধন্য বাংলাদেশী কোম্পানি গ্র্যান্ড মিজান ইন্টারট্রেটার্স প্রথম দফায় প্রায় কয়েক শতাধিক ক্যাটাগরি থ্রি-এর প্রফেশনাল ভিসার অনুমোদন পায়।
বুধবার (১২ মার্চ) রাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ওই প্রফেশনাল ভিসার টেকনিক্যাল এক্সপার্ট একদল কর্মীকে রিসিভ করেন মিজান গ্র্যান্ড ইন্টারট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী দাতু মিজান।
এ বিষয়ে ধাতু মিজান বলেন, এই প্রফেশনাল ভিসার বিশেষত্ব হচ্ছে উচ্চ হারে লক্ষাধিক টাকার বেতন প্রদান, যে কোনো সময় অবাধে দেশে আসা যাওয়া, দু’বছরের ভিসা একসাথে অনুমোদন, স্ত্রী সন্তান মালয়েশিয়ায় সাথে রাখার সুবিধা, ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষারব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকে। যা সাধারণত কলিংয়ের ওয়ার্কার বা শ্রমিক ভিসায় থাকে না। তবে ভিসার খরচ একটু বেশি এবং এসব ক্যাটাগরিতে অভিজ্ঞ ও দক্ষকর্মী যেমন, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনোলজিস্ট, চিকিৎসক, নার্স, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট, বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেয়া হয় মালয়েশিয়ান বিভিন্ন কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে।
২০১৬ সালের পর বাংলাদেশীদের জন্য প্রফেশনাল ভিসা নবায়ন হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যারা ওই সময় প্রফেশনাল ভিসা ক্যাটাগরি ১ এবং ২-এর অধীনে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিল পরে এক বছর পর তাদের ভিসা আর নবায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশী অবৈধ হয়ে পড়েছিলেন। তারপর সম্প্রতি কিছু সংশোধনীর পর সেই জটিলতা কাটিয়ে আবারো প্রফেশনাল ভিসার ক্যাটাগরি ৩-এ অনুমোদন দিচ্ছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন)।
মালয়েশিয়ার কমিউনিটি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কলিং ভিসায় শুধুমাত্র কন্সট্রাকশন খাতে নির্মাণ শ্রমিক, কারখানা শ্রমিক, বাগানশ্রমিক খাতে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু প্রফেশনাল ক্যাটাগরিতে কলিং-এ কোনো কর্মী আসতে পারেনি। মালয়েশিয়াতে সব সেক্টরেই বাংলাদেশীকর্মীর ব্যাপক চাহিদা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। যদি দু’দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে প্রফেশনাল ভিসার অনুমোদন আরো বেগবান করা হয় তাহলে মালয়েশিয়া টেকনোলজি ও প্রফেশনাল খাতে বাংলাদেশী কর্মীদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।