ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী সরকা‌রি আনন্দ মোহন কলেজর অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: আমান উল্লাহকে ওএস‌ডি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পদায়ন করা হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (উপাধ্যক্ষ) মোহাম্মদ সা‌কিব হোসেন জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপ-সচিব মো: আ: কুদ্দুস। ওই প্রজ্ঞাপনে অধ্যক্ষ মো: আমান উল্লাহকে ওএস‌ডি ও পদায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এর আগে, রোববার অপরাহেৃর আগে উপাধ্যক্ষের নিকট অধ্যক্ষ পদের দায়িত্বভার হস্তান্তরপূর্বক বর্তমান কর্মস্থল থেকে তার দায়িত্ব ছেড়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ মো: আমান উল্লাহকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়। তবে রোববার বিষয়‌টি জানাজা‌নি হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কলেজ ক্যাম্পাসে আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ ছিল।

এছাড়াও অধ্যক্ষ মো: আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলে সম্প্রতি আন্দোলনে নামেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ক্ষমতার বলয়ে থেকে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ মো: আমান উল্লাহ। এ নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ‌শিক্ষক শিক্ষার্থী‌দের একাংশ সরব ছিলেন।

বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কামাল উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।

অভি‌যোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে তিনি তার রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যাপক সুবিধা ভোগ করেছেন। তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

জানা গেছে, অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগ। তিনি তার চেয়েও জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকদের ডিঙিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষের পদ লাভ করেন।

এছাড়াও, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের টাকা এবং পিকনিকের জন্য নেয়া টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

তাছাড়াও, শিক্ষক পরিষদ গঠনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে তিনি নিয়ম ভঙ্গ করে নিজের অনুসারীদের প্রাধান্য দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মদদ দিয়েছেন এবং তাদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও উঠেছিল। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগের জেরে কলেজের সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার অপসারণের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বেশ কয়েকবার।

অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর ওএসডি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তার বিদায়কে কলেজের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘অবশেষে কলেজ রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির কবল থেকে মুক্তি পেল।’

কলেজের শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। তার অপসারণে নতুন করে ভালো কিছু হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর বক্তব্য জানতে চাইলেও সম্ভব হয়নি।