রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের উচ্চতর গবেষণার একমাত্র কেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর সিনিয়র ফেলো হিসেবে যোগদান করেছেন প্রফেসর ড. সুলতানা মোস্তফা খানম।

তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকতা থেকে ২০২৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং ২০২৫ এর এপ্রিল থেকে ২০২৬ এর জুলাই পর্যন্ত বিভাগে সুপারনিউমারারি প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এর আগে সত্তরের দশকে আইবিএস প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাত্র দুজন এই পদটি প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেন। তারা হলেন ইতিহাসবিদ প্রফেসর আব্দুল করিম এবং অর্থনীতিবিদ প্রফেসর সনৎ কুমার সাহা।

গত ১৩ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. সুলতানা মোস্তফা খানমকে আইবিএসের সিনিয়র ফেলো হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রফেসর ড. সুলতানা ১৯৮২ সালে রাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৮৩ সালে এমএ সম্পন্ন করেন। এরপর একই বিভাগে ১৯৮৭ সালে প্রভাষক পদে যোগদান করেন।

১৯৯৪ সালে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের কিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিক্যাল সোসিওলজিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০০৪ সালে তিনি কমনওয়েলথ ফেলোশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-ডক সম্পন্ন করেন।

তিনি ২০০১ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ইউনিটে এবং ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভিজিটিং স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মধ্যে হায়ার এডুকেশন লিংক প্রোগ্রাম স্থাপন করেন এবং ফেলোশিপ নিয়ে পোস্ট-ডক প্রোগ্রামে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লিংক প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া ডিএফআইডি, ইউএনডিপি, নোরাড, ডব্লিউএফপি, কেয়ার, বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত তার গবেষণা প্রকল্পের সংখ্যা ১৮টি।

তিনি এরিয়া রিভিউ প্যানেল, এইচইকিউইপি, বিশ্বব্যাংক/ইউজিসি বাংলাদেশ শাখার সদস্য এবং ইউজিসির গবেষণা ও প্রকাশনা মূল্যায়ন কমিটি, বাংলাদেশের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানেও তিনি ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ-এর জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য।

তিনি কয়েক দফায় ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজে সহযোগী শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। তিনি দুই দফায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার তত্ত্বাবধানে ১২ জন পিএইচডি ফেলো এবং ৭ জন এমফিল ফেলো তাদের গবেষণা কাজ পরিচালনা করেছেন। তার আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৩৫টির অধিক। তিনি রাজশাহী সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং কয়েকটি ভলান্টিয়ার অর্গানাইজেশনের সদস্য।

এ বিষয়ে আইবিএসের পরিচালক প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সিনিয়র ফেলো হিসেবে মূলত যারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আছেন, গবেষণায় ভালো করেছেন এবং যাদের গবেষণা বেশি, তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। এর আগে আশির দশকে একজন আমেরিকান স্কলারও এই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।’