বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে ভিসি পদত্যাগ না করলে দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

রোববার (৪ এপ্রিল) বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ডফ্লোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভিসির নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে সুজয় বিশ্বাস শুভ বলেন, গত ১৮ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। তাদের দাবি নিয়ে দফায় দফায় বসার সুযোগ থাকলেও ভিসি একবারের জন্যও তাদের সাথে যোগাযোগের কোনো উদ্যোগ নেননি। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গণতান্ত্রিক পরিবেশে এমন স্বৈরাতান্ত্রিক মনোভাবের লোক তারা চায় না।

তিনি বলেন, ইউজিসি ও শিক্ষা উপদেষ্টা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আমরা দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেয়ার ঘোষণা দিচ্ছি। আমরা চাই না সাধারণ মানুষরা দুর্ভোগে পড়ুক।

তিনি আরো বলেন, যৌক্তিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে দফায় দফায় মামলা-জিডি করেন। স্বৈরাচারের দোসরদের তিনি আইনের আওতায় আনার বদলে তিনি তাদের পুরস্কৃত করেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সাহায্যের আবেদন চার মাস আগের, তবে তিনি তা খুলে পর্যন্ত দেখেননি।

এর আগে ভিসি অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভা করা হয়েছে। আমি শিক্ষার্থীদের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি ও দাবি-দাওয়া নিয়ে বসতে চাই।’

এক দফা দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই অভ্যুত্থানের সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, ‘বিভিন্ন দাবি নিয়ে তিন সপ্তাহ যাবত আন্দোলন চলছে। ভিসি চাইলে শিক্ষার্থীদের সাথে বসতে পারতেন কিন্তু তিনি শিক্ষার্থীদের কোনো দাবিতে কর্ণপাত করেননি। এ ভিসি শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা ইউজিসিকে আহ্বান করছি অবিলম্বে এ ভিসিকে অপসারণ করতে হবে। একইসাথে একজন সৎ ও যোগ্য ভিসিকে নিয়োগ দিতে হবে।’