মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে মিয়ানমার। পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতার সাথে সাক্ষাৎ করারও চেষ্টা চলছে।

পশ্চিমা দেশগুলো মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আসিয়ানও তাকে তাদের শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানায়নি। তাই বিমসটেক সম্মেলন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমার ভারতের সাথে বৈঠকের অনুরোধ পাঠালেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমসটেকের সব সদস্য দেশ সম্মেলনে অংশ নেবে। তবে মিন অং হ্লাইং সেখানে কার কার সাথে বৈঠক করবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা নেয়। এরপর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসঙ্ঘের মতে, এখন দেশটির এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

মিন অং হ্লাইং বলেছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে এবং বিজয়ী দলের কাছে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। তবে সমালোচকদের মতে, এটি সেনা শাসন টিকিয়ে রাখার কৌশল।

তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছেন। তার বিদেশ সফরও সীমিত, বেশির ভাগই রাশিয়ায়। সম্প্রতি তিনি রাশিয়া ও চীন সফর করেছেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গত নভেম্বরে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়ার কথা জানিয়েছে। এতে তার ভবিষ্যৎ ভ্রমণ আরও সীমিত হতে পারে। তবে মিয়ানমার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র : রয়টার্স