মিয়ানমারের ভূমিকম্পে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধার ও চিকিৎসা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। রোববার (৬ এপ্রিল) মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ধ্বসে পড়া ভবনে বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দল উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দলটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্য, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের অভিজ্ঞ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রকৌশল দলের পরিচালিত প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ভবনের অধিকাংশ কলাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভবনের কিছু অংশ সম্পূর্ণরূপে ধ্বসে পড়েছে। ভবনটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কম্পিউটার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উদ্ধারে বাংলাদেশ টিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামীকালও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ চিকিৎসা সহায়তা দল রোববার নেপিডো শহরের বিভিন্ন হাসপাতালসমূহে চিকিৎসা সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। দলটি এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভূমিকম্পে গুরুতর আহত এক শিশুর সফল অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি আরো পাঁচটি গুরুতর অপারেশনে অংশগ্রহণ করে।

আগামীকাল চিকিৎসা সহায়তা দল মিয়ানমার স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম ও চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ মিয়ানমারে সংঘটিত বিধ্বংসী ভূমিকম্পের প্রেক্ষিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিশেষ উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা দল মিয়ানমারের নেপিডো শহরে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।