‘শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়বো দেশ নতুন করে’- প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে বিভাগীয় নগরীর রংপুরে নানা আয়োজনে পালন হচ্ছে মহান মে দিবস এবং জাতীয় সেফটি ও স্বাস্থ্য দিবস। এতে অংশ নিয়ে ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা ও প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (১ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় কাচারীবাজার থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ বের হয় র‌্যালি। এতে বিভাগীয়, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ব্যানার নিয়ে অংশ নেয়।

মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্বোধন করে বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডিসি মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। এতে আরো বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রুহুল আমীন, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন, বিভাগীয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক কার্যালয়ের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আল আমীন, শ্রমিক দলের রংপুর বিভাগীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালেক ও সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধ ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি প্রমুখ।

এদিকে পুরো নগরীতে জেলা ও মহানগর জাতীয়বাদী শ্রমিক দলের কর্মসূচি চলে। এতে শ্রমিকদলের নেতারা ছাড়াও অংশ নেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু।

অন্যদিকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, শ্রমিক পার্টি, অটো শ্রমিক পার্টি, জেলা ও মহানগর মোটর; ট্রাক, কাভার্ডভ্যান; ট্রাক্টর; হোটেল ও রেস্তোরা; মুদি; দর্জি, স্বর্ণ শিল্পী, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচার ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও মানববন্ধন করে।

এছাড়াও প্রেস ক্লাবের সামনে উদীচী শিল্পগোষ্ঠির পরিবেশনায় শ্রমিকদের জন্য বিশেষ গান পরিবেশন হয়।

সব কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা নিশ্চিত এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দিতে হবে।

এছাড়াও তারা মহার্ঘ ভাতা, উৎসব বোনাস, শ্রমিক হাসপাতাল নির্মাণসহ যথাসময়ে মজুরি প্রদানের দাবি জানান।