কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাবিবুল হুদা চৌধুরী প্রকাশ কালু (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন আরো দুই নারী।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাবিবুল হুদা চৌধুরী প্রকাশ কালু ওই এলাকার মরহুম সামশুল হুদা চৌধুরীর ছেলে।
ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু তালেবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ও অপসারিত ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
নিহতের ছেলে অ্যাডভোকেট আবিদুল হুদা জানান, ‘শুক্রবার বিকেলে বিরোধপূর্ণ স্থানীয় একটি জমিতে সংঘাত নিরসনে পুলিশ ফোর্স যাওয়ার পথে তার ছোট ভাই সাবিদ থেকে লোকেশন জিজ্ঞেস করে। তিনি লোকেশন দেখিয়ে দিলে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের অপসারিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক ক্ষিপ্ত হয়ে ‘তোমাদের সরকার আর কয়দিন থাকবে, এরপর তোমাদের দেখে নেয়া হবে’ বলে হুমকি দেন। এরপর রাতে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসীসহ বাড়িতে গিয়ে গুলিবর্ষণ করে আবদুর রাজ্জাক।’
২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার ও ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেলে জমি দখলের ঘটনায় সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক আহত হন। এর জের ধরে তার অনুসারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রাতে কালুর বাড়িতে ঢুকে গুলিবর্ষণ করলে বুকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এ সময় দুইজন নারীও আহত হন।’
স্থানীয়রা জানান, পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ছৈয়দ আলম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খান কায়সারসহ আইনজীবী নেতারা। এ সময় তারা খুনীদের আটক করার দাবি জানান তারা।
এদিকে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাতে মিছিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আবদুর রাজ্জাকসহ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।
ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মছিউর রহমান বলেন, ‘জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি বলেও জানান ওসি।’