রাত সাড়ে ১১টায় খবর আসে নুরুন্নাহারের বসতঘরে আগুন লেগেছে। মুহূর্তেই বাকরুদ্ধ হয়ে যান তিনি। কষ্টের উপার্জনের এক লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা নতুন ঘর এবং তিল তিল করে অর্জিত দুই লাখ টাকার ফার্নিচারসহ আসবাবপত্র মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

রোববার (১৩ এপ্রিল) রাতে লংগদু উপজেলার মাইনী মুখ ইউনিয়নের সোনাই ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুই নম্বর ব্লক এলাকার হতদরিদ্র নুরুন্নাহারের বসতঘরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতে শব্দ শুনতে পেলে তারা আগুনের লেলিহান দেখে ঘটনাস্থলে এসে দেখেন বসতঘরে আগুন। ঘরের কাছে যাওয়া অসম্ভব। দরজা খোলা, মনে হলো ঘরের মধ্যখানে কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরের মালিক নুরুন্নাহার বলেন, ‘আমি আর আমার ছেলে আলতাফ মার্কেট একটি মাদরাসায় চাকরি করি, তাই আমরা বাসায় থাকি কম। গত পরশু দিন আমরা আলতাফ মার্কেট মাদরাসায় চলে গেলে এক দিন পর রাত ১২টায় শুনি আমার ঘরে আগুন লেগেছে। আমি এসে দেখি আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

‘আমি কষ্ট করে এক ছেলে ও এক মেয়েকে লেখাপড়া করাই। পাশাপাশি মানুষের বাসায় কাজ করে অর্জিত টাকা দিয়ে কিছুদিন আগে এই ঘরটি নতুন করে তুলি এবং অনেক কষ্ট করে গরু-ছাগল পালন করে তা বিক্রি করে ঘরের জন্য কিছু ফার্নিচারসহ আসবাবপত্র ক্রয় করি। তবে শেষ পর্যন্ত আগুন আমার জীবনের অর্জিত সহায়-সম্বল সব কেড়ে নিলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার পক্ষে আর উঠে দাঁড়ানো সম্ভব না। আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছিলেন তা আবার কেড়ে নিলেন। আমি নিরুপায়।’

এ বিষয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মতিন বলেন, ‘পরিবারটি আসলেই দরিদ্র। এই ঘরের আগুনের ঘটনাটিতে আমি বাকরুদ্ধ। তাই আমার দিক থেকে সহযোগিতা থাকবে, পাশাপাশি আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি যাতে এই মহিলা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতি হওয়া বিষয়গুলো পুষিয়ে আসতে পারে।’

এ বিষয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য রানি বেগম বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পর আমি ঘটনাস্থলে এসে দেখি নুরুন্নাহারের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর এই পরিবারের পক্ষে নতুন করে ঘর উঠানো কিংবা সেসব ফার্নিচার ও আসবাবপত্র সংগ্রহ করা অসম্ভব। আমার ব্যক্তিগত সহোযোগিতা অব্যাহত থাকবে, পাশাপাশি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’