প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়ছেন নগরীর কর্মব্যস্ত মানুষরা। নাড়ির টানে ঈদের ছুটির প্রথম দিন শুক্রবারেই চাপ বেড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুতে। গত ১৪ ঘণ্টায় সেতুটিতে পারাপার করেছে অন্তত সাড়ে ২৫ হাজার যানবাহন। এতে টোল আদায় হয়েছে প্রায় দু’কোটি ৬০ লাখ টাকা।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, পদ্মা সেতুর টোল প্লাজাকে ঘিরে সকাল পৌনে ৭টার দিকে সেতুর মাওয়া প্রান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এ সময় মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত চাপ ঠেকাতে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত আরো একটি বুথ চালুসহ মোট তিনটি বুথ দিয়ে মোটরসাইকেলের টোল আদায় করা হয়। একইসাথে মাওয়া প্রান্তে সচল থাকে আটটি বুথ। সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে যানবাহনের চাপ অনেকটা কমে আসে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্তে মোটরসাইকেলসহ ১৮ হাজার ৬১২টি যানবাহন ও জাজিরা প্রান্তে ছয় হাজার ৮৮৯টি যানবাহনসহ দু’প্রান্ত দিয়ে মোট ২৫ হাজার ৫০১টি যানবাহন পারাপার করেছে। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে দু’কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এর আগে ২৬ মার্চ ২৪ ঘণ্টায় সেতুর দু’প্রান্তে ২৬ হাজার ৪২৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ফলে টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা। পরদিন (২৭ মার্চ) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর দু’প্রান্তে যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৭ হাজার ৬৮৩টি। এতে টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি সাত লাখ ৬৭ হাজার ৮৫০ টাকা।

ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় পদ্মা সেতুতে এসব যান চলাচল বেড়েছে। ফলে সরকারি খাতে সংগ্রহ হচ্ছে অধিক অর্থ (টোল)। ঈদের আগ পর্যন্ত সেতুটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক যানবাহন চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাড়তি যানজটে যেন জনদুর্ভোগ তৈরি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখছেন কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, মাওয়া প্রান্তে আটটি ও জাজিরা প্রান্তে আটটিসহ মোট ১৬টি বুথ সার্বক্ষণিক সচল রয়েছে। এক্ষেত্রে মোটরসাইকেলগুলো প্রতি ৫ সেকেন্ডে এবং অন্য বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস প্রতি আট সেকেন্ডের মধ্যেই টোল পরিশোধ করতে পারছে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে পাড়ি জমাচ্ছে যাত্রীরা।

ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনগুলো দ্রুততম সময়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে যানবাহন চলার নির্দেশনা দিয়েছে সেতু বিভাগ। এছাড়া টোলপ্লাজায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে অতিরিক্ত টোল কালেক্টর। একইসাথে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলাতে টোল প্লাজায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে বেপরোয়া গতি ও ওভার ট্রেকিং বন্ধে সচেতনতামূলক মাইকিং ও টহল কার্যক্রম জোরদার করছে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ বিভাগ।

পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘টোল প্লাজার সামনে গাড়ির চাপ অন্য দিনের তুলনায় অনেকটা বেশি। শুক্রবার ভোররাত থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে যানবাহনের অধিক চাপ থাকায় টোল প্লাজায় কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে যানবাহনগুলোকে। তবে সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে তা অনেকাংশে কমে এসেছে। টোলপ্লাজায় দীর্ঘ সময়ের জন্য যানজটে আটকে থাকার জনভোগান্তি তেমন ছিল না।’

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের আটটি ইউনিট দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া শুক্রবার দিনভর মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে বেপরোয়া গতি ও ওভার ট্রেকিং বন্ধে সচেতনতামূলক মাইকিং করার পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।’

পদ্মা সেতুর উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, ‘সকালের দিকে টোলপ্লাজা থেকে ওয়েস্কেল পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও বেলা ১১টার আগেই সেগুলো পদ্মা সেতু পার হয়ে গেছে। তবে ঈদ যাত্রায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেতু এলাকায় থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাঁচ থেকে ছয়টি টহল টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের একাধিক ইউনিট তাদের টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।’