চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা-গোবিন্দহুদা এলাকায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে ধসের মুখে পড়েছে দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা-মুজিবনগর আঞ্চলিক সড়ক। সম্প্রতি টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সড়কের নিচের মাটি ধুয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন সাময়িকভাবে এই আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ওই রুটে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিৎলা-গোবিন্দহুদা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন সড়কের পাশে প্রায় ২০ বিঘা জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী চক্র বাণিজ্যিকভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে সড়কের পাশ ঘেঁষে অসংখ্য গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। গত শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে সেসব গর্তে পানি জমে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয় এবং সড়কের নিচের মাটি ধুয়ে ফাঁপা হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে তা দেবে যাচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় পুরো রাস্তা কেঁপে উঠছে। যেকোনো সময় সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া সড়কের পাশের দুটি বড় গাছ ধসে হেলে পড়ায় একটি গাছ কেটে অপসারণ করেছে প্রশাসন।
এদিকে অবৈধ এই খননযজ্ঞের কারণে শুধু সড়কই নয়, আশেপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক মাঠে যাওয়ার কাঁচা রাস্তা ভেঙে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং আবাদি জমিও নষ্ট হচ্ছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে লাল কাপড় টানিয়ে যান চলাচল বন্ধের সংকেত দেয়া হয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি সংস্কার করা গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি আবারো ধসের মুখে পড়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এ সময় তার সাথে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসন জানায়, জননিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি কমলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কারিগরি দল দ্রুত সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু করবে।
এ ছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে। তবে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে এখনই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নওয়া এবং দ্রুত সড়কটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা জরুরি।