মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
সাপে কাটা রোগীদের জীবন বাঁচাতে অ্যান্টিভেনম কেনার জন্য চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৩ লাখ টাকা। তবে ওই অর্থ দিয়ে অ্যান্টিভেনম কেনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেয়া ওই টাকা হাসপাতালের হিসাবে জমা হয়নি। এমনকি বরাদ্দের অর্থে অ্যান্টিভেনম কেনার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষকের।
অন্যদিকে, অ্যান্টিভেনম কেনার দাবির পক্ষে একটি রশিদ থাকার কথা জানা গেছে। ফলে সরকারি বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা কোথায় গেল এ নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
মতলব উত্তর নদী ও চরাঞ্চলঘেরা উপজেলা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এখানে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, প্রতিবছর কয়েক শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার হন। সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম না থাকার বিষয়টি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনির নজরে এলে সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম কিনতে উপজেলা পরিষদ থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের নামে চেক দেয়া হয়। নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর চেকটি গ্রহণ করা হয়। চেকটির নম্বর ৮৬২৫৮৩৯১২১০২৫।
তবে বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার মনজুরুল ইসলাম জানান, উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা দিয়ে কোনো অ্যান্টিভেনম কেনা হয়নি। এমনকি ওই টাকা হাসপাতালের ব্যাংক হিসাবেও জমা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের দাবি, তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে হাসপাতালের রানিং ক্যাশ থেকে অর্থ নিয়ে ৩০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেনা হয়েছিল। ওই কেনাকাটার হিসাব অফিশিয়াল রেকর্ডে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, অ্যান্টিভেনম কেনার পর ইউএনওকে হাসপাতালে নিয়ে ফটোসেশন করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকা ডা. রাজন কুমার দাসের কাছে উপজেলা পরিষদের ওই ৩ লাখ টাকা কিংবা ওই পরিমাণ অর্থের অ্যান্টিভেনম কেনার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, বরাদ্দের অর্থ ও অ্যান্টিভেনম কেনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টি জানা যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, অ্যান্টিভেনম কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
সাপে কাটা রোগীর জীবন রক্ষায় বরাদ্দ করা সরকারি ৩ লাখ টাকা, একদিকে অ্যান্টিভেনম কেনার দাবির পক্ষে রশিদ, অন্যদিকে হাসপাতালের হিসাবে নেই সেই অর্থ এবং নেই কেনাকাটার স্পষ্ট তথ্য। ফলে সরকারি এই অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। এখন তদন্তের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা কোথায়, কীভাবে এবং কার নির্দেশে ব্যয় হয়েছে তার সঠিক হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।