গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেল ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে নদী ভাঙনে ভোরের বিদ্যালয়টি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
পাশাপাশি কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে শতাধিক বসতভিটা ও শত শত একর জমি এবং প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কাপাসিয়া ইউনিয়নের মানুষজন।
ভোরের পাখি গ্রামের জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের গ্রামে একটি মাত্র সরকারি প্রাইমারি স্কুল আমাদের ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে, এটাও নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেল। এখন আমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় লেখাপড়া করবে জানি না। ’
স্থানীয়দের দাবি, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। তা ছাড়া হয়তো বা আমরা বাঁচতে পারব না তিস্তা নদীর করাল গ্রাস থেকে।
এ ছাড়াও লালচামান, ভোরের পাখি, রাঘব, উত্তর শ্রীপুর ও পূর্ব লালচামানসহ অসংখ্য গ্রামে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল সোমবার বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে শুনলাম স্কুল নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। সাথে সাথে এটিও স্যারকে নদী ভাঙার কথা বলেছি। স্যার সাথে সাথে আসেন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ জন শ্রমিক দিয়ে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র নিরাপদে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে একটি বেড়া ও তিনটি জানালা নদীতে চলে গেছে।’
প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, ‘ইউএনও, ডিসি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ, এমপি ও মন্ত্রীসহ সকলে পরিদর্শন করে শুধু আশ্বাস দিয়েছিল। সরকারিভাবে যদি কোনো পদক্ষেপ নিত তাহলে আজ এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হতো না। ’
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মুকুলচন্দ্র বর্মন বলেন, ‘নদী ভাঙন যখন শুরু হয়েছে তখন সাথে সাথে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়েছে। তারা কোনো প্রকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যার কারণে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হলো। ’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আবারো নতুন করে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে বিষয়টি আমি শুনেছি। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিষ্ঠানটি অন্যত্রে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। ’
গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদী ভাঙনের খবর পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নিতে বলেছি। হয়তোবা ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গতবছর স্কুলের আশেপাশে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল।’
গাইবান্ধা ১ সুন্দরগঞ্জ (আসনের) সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবগত করেছি। ’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ’