বরিশালের উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীর গর্ভে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা গ্রাম। যা ওখানকার মানুষজনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ধরিয়েছে। বর্ষার মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে যেন বেড়েই চলছে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারানো পরিবারের সংখ্যা। ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকেই হারাতে বসেছে গ্রামগুলো।

জানা যায়, এক সময় উপজেলার বরাকোঠা ইউনিয়নে দেখা মিলতো জমির পর জমি আর পাকা বসতভিটার। তবে গত কয়েক বছরে নদীটিতে ভিটাবাড়ি ও জমি হারিয়েছে শত শত পরিবার। নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন তাদের অনেকে।

এদিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখের সংসার ছিল নরকেলী গ্রামের সুলতান মৃধার। তবে তার সবকিছুই তছনছ করে দিয়েছে এ সন্ধ্যা নদী। এখন প্রায় নিঃস্ব তিনি। তার মতো প্রতিবেশী আলাউদ্দিন মৃধারও ২০ শতাংশ জমির ওপর ছিল বসতবাড়ি। নদীর ভাঙনে পথে নামতে হয়েছে আলাউদ্দিনের পরিবারকেও।

একই গ্রামের বাসিন্দা গনি মৃধা, সরোয়ার মৃধাও নদীভাঙ্গনে সব হারিয়ে চলে গেছেন অন্যত্র।

ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুলাতান মৃধার ছেলে বাবুল মৃধা প্রবাস জীবনের আয়ের অর্থ দিয়ে নির্মাণ করেছিলেন একটি পাকা ভবন। তবে মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে শখের সেই ভবনটিও চলে গেছে নদীর মধ্যে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবুল মৃধা বলেন, ‘পান্নি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় আমার স্বপ্নটা আজ নদীগর্ভে। এভাবে আর কত পরিবার নিঃস্ব হবে! কর্তৃপক্ষের দ্রুততম সময়ে হস্তক্ষেপ জরুরি।’

এভাবেই বড়াকোঠা ইউনিয়নের চারটি গ্রামের শত শত পরিবার নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ে সব হারিয়েছেন।

নারকেলী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, ‘সরকার নদী ভাঙ্গনরোধে পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করায় গ্রামটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।’

চলতি বছর নদী ভাঙ্গনে বসতভিটা বিলীন হওয়া নাসিমা বেগম বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যেই আমার বসতবাড়িটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।’

বড়াকোঠা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নদী ভাঙ্গনে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন পার করছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত এগিয়ে আসা উচিত।’

উজিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সন্ধ্যা নদী ভাঙ্গনরোধে আন্দোলনের নেতা এস এম আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, ‘কয়েক বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গনে সড়ক-ফসলের জমিসহ বড়াকোঠা ইউনিয়নের একাংশ হারিয়ে গেছে। পদক্ষেপ না নিলে দুর্ভোগের শেষ হবে না।’

উজিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, ‘চলতি বছর নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়া বরাকোঠা ইউনিয়নের নারকেলী গ্রামের ১০টি পরিবারকে দলের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়েছে। ভাঙ্গনকবলিত মানুষজনের সহায়তায় সংগঠন সর্বদা পাশে থাকবে। তবে কর্তৃপক্ষেরও সহায়তার সাথে স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী সুজা বলেন, ‘সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের কবলে রয়েছে উজিরপুরের বিভিন্ন জনপদ। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।’