সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হওয়ার পথে দোয়ারাবাজারের সুরমা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রাম। যেখানে বসবাস রয়েছে শত শত পরিবারের। ইতোমধ্যে গ্রামটির ফসলি জমি, রাস্তা, গাছপালা, কবরস্থান, খেলার মাঠ ও শতাধিক বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী।

রোববার (৬ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত এলাকায় সুরমা নদীর পানির স্রোতের সাথে একাধিক জায়গার পাড় ভেঙে পড়ছে। নদীর তীরের বাসিন্দাদের শতাধিক পরিবার আত্মরক্ষায় নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় বসতভিটার গাছপালাও কেটে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। কয়েক বছর ধরেই সোনাপুর গ্রামে চলছে আত্মরক্ষায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার এ কর্মযজ্ঞ।

এদিকে উপজেলায় সুরমা নদীর একাধিক এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকার ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও আওতাভুক্ত করা হয়নি সবচেয়ে বেশি ভাঙনকবলিত এলাকা সোনাপুরকে। ফলে দিন দিন ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এতে আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে ওই এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় কৃষক নূর ইসলাম বলেন, ‘পানি কমার সাথে সাথে তীব্র ভাঙন শুরু হয় সুরমার পাড়ে। গত দশ বছরে প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নানা স্থাপনা চোখের সামনে নদীতে বিলিন হতে দেখেছে এলাকাবাসী। এর থেকে কষ্টের আর কিছু নেই।’

এদিকে খালেদা আক্তার নামে চার সন্তানের এক জননী নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের জমিতে থাকছেন তিনি।

বয়োবৃদ্ধ ছয়দুন নেছা (৭০) দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানান, ‘এক সময় বসতঘর-ফসলিজমি সবই ছিল। চোখের সামনেই সবকিছু গিলে খাচ্ছে সুরমা নদী। কেউ আমাদের খোঁজ রাখেনি। জমি-জমা, বসতবাড়ি হারিয়ে এখন সামান্য মাথাগুঁজার ঠাঁইটুকু নিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকি সারাক্ষণ।’

জমশেদ আলী জানান, ‘গ্রামের বসতবাড়ি, ফসলিজমি, খেলার মাঠ, সামাজিক কবরস্থান সবকিছুই সুরমা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় চার শ’ বছরের পুরনো এ সোনাপুর গ্রামটি এখনই রক্ষার কোনো উদ্যোগ না নিলে এক সময় পুরো গ্রাম নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। গ্রামবাসীরা উদ্বাস্তু হয়ে পড়বে। সরকারিভাবে চলমান নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পে সোনাপুর গ্রামকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দোয়ারাবাজার পওর উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: শমশের আলী জানান, ‘সুরমা নদী ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রায় শতকোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে সুরমা নদীর একাধিক সাইটে আরো কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।’