কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে উৎকোচের জন্য সরকারি বরাদ্দের অর্থ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য গত অর্থবছরে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয় ভেদে ১৫ থেকে ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। শিক্ষা কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র ৩০টি বিদ্যালয়ে বরাদ্দের অর্থ ছাড় করেন। এতে অধিকাংশ বিদ্যালয়ের বরাদ্দের অর্থ ছাড় করা হয়নি। বরাদ্দের পুরো অর্থ শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তোলন করে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাত হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ ছাড়ের ক্ষেত্রেও বিদ্যালয়গুলো থেকে ৫০০ টাকা করে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উৎকোচ না দেয়ায় প্রায় ৩০টি বিদ্যালয় এখনো তাদের বরাদ্দের অর্থ পায়নি।
এ ছাড়া গত অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য উপজেলার আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ অর্থও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তোলন করে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন। বরাদ্দ ছাড়ের জন্য বিদ্যালয় প্রতি পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করা হয়।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ভোটহাট ও দক্ষিণ চর-ভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হলেও বিদ্যালয় দু’টিতে কোনো অর্থ দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, উপজেলার ৩৯ জন নৈশপ্রহরীর বেতন বাবদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ অর্থে ১৫ জন নৈশপ্রহরীর বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র কয়েকজনকে বেতন দেয়া হয়। বাকিদের কাছ থেকে উৎকোচ না পাওয়ায় তাদের বেতনের টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় করে ভাউচার জমা দেয়া হলে সেগুলোর কিছু ত্রুটি সংশোধনের জন্য বলা হয়। সংশোধন করে পুনরায় জমা দেয়ার পরেও অজ্ঞাত কারণে এখনো অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়নি।
তাদের দাবি, যারা উৎকোচ দিয়েছেন কেবল তারাই বরাদ্দের অর্থ পেয়েছেন। তারা আরো অভিযোগ করেন, শিক্ষা কর্মকর্তা রংপুর থেকে এসে সপ্তাহে মাত্র তিন দিন- সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার অফিস করেন। ফলে দাফতরিক কাজে অফিসে আসা শিক্ষকদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের ফোনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘স্লিপের টাকা ও ভোটকেন্দ্র মেরামতের বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে হোয়াটসঅ্যাপে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’