মাদারীপুর নতুন শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে শূন্য পদ না থাকায় অর্থের বিনিময় শূন্য পদ দেখিয়ে বদলির আদেশ নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে রহিমা আক্তার(এনি) নামে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। গত ১৭ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক(পলিসি ও অপারেশন) মাফুজা খাতুন স্বাক্ষরিত একটি আদেশে এমন চিত্রের দেখা মেলে।

আদেশটিতে দেখা যায়, রহিমা আক্তার(এনি) নামে এক সহকারী শিক্ষিকাকে ‘খোয়াজপুর চৌকিদারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ থেকে ‘নতুন শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ বদলি করা হয়েছে। শূন্য পদের বিপরীতে বদলি আদেশ উল্লেখ থাকলেও পদটিতে চাকরি করছেন কামরুন্নাহার নামে এক শিক্ষিকা।

বিষয়টি নিয়ে গত ২৯-০৬-২০২৫ইং তারিখ (রোববার) নতুন শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নেয়া হলে দেখা যায়, ঘোষিত শূন্য পদে নিয়মিত ক্লাশ করাচ্ছেন কামরুন্নাহার নামে এক শিক্ষিকা। জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষিকা কামরুন্নাহার বলেন, বিগত ১২-০১-১৯৮৫ইং তারিখ হতে তিনি এই স্কুলে চাকরি করছেন, আগামী ৩০-০৬-২০২৫ ইং তারিখে অবসরে যাবেন তিনি। তবে চাকরি করা অবস্থায় কেনো তার এই পদটি শূন্য দেখানো হলো এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

এমন বদলি আদেশ নিয়ে জেলার শিক্ষকদের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, নতুন শহর (প্রা:) বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মেজবাউর রহমান জানান, এমন একটি বদলি আদেশের চিঠি আমি পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ আমাকে যা আদেশ করবে আমি তা মানতে বাধ্য। এর বেশি আমি বলতে চাচ্ছি না।

বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বদলির আবেদন তার মাধ্যমে পাঠানো হয়নি। তবে বদলির আদেশটি তাকে দফতর থেকে মেইলে পাঠানো হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা শিক্ষক সমিতির নেতা এক শিক্ষক বলেন, ‘আমি গত ২০ বছরেও এমন আদেশ দেখিনি। বদলির আদেশ এভাবে হতে পারে এই প্রথম জানলাম। চাকরিরত পদটিকে শূন্য ঘোষণা করা বিষয়টি খটকা মনে হচ্ছে। এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আর কেউ যাবে না। বদলির আদেশ ঠিক থাকলেও পদ্ধতিগতভাবে হয়নি।’

শিক্ষিকা রহিমা আক্তার(এনি) এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানান, তার স্বামী রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা (ওডিটর), সে এ বিষয়ে কাজ করেছেন। বদলির আদেশ প্রাথমিক শিক্ষা দফতর থেকে হয়েছে।

এ বিষয়ে রহিমা আক্তারের (এনি) স্বামী মনির হোসেন (ওডিটর) জানান, তার স্ত্রী সংশিষ্ট দফতরে আবেদন করেছেন সেই আবেদনের ভিত্তিতে হয়েছে। এখন বিজি আছি পরে কথা বলবো।