শখের বসে শুরু করা মাছের খামার এখন দেশসেরা। ফেনীর দাগনভূঞার ডা. আশরাফ ফিসারিজের উদ্যোক্তা চিকিৎসক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম মাছ চাষে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় মৎস্য পদক পেয়েছেন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি গড়ে তোলা তার খামারটি এখন বেকার যুবক ও উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।
শখের বসে করা খামার কেবল আর্থিক সাফল্যই নয়, এখন দেশসেরা হয়ে অর্জন করেছে জাতীয় পদক। দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুরে গড়ে ওঠা ডা. আশরাফ ফিসারিজের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি মাছ চাষ করে এ সাফল্য অর্জন করেছেন।
রাজধানীর পিজি হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি শখের বসে গড়ে তোলা মাছের খামারের জন্য জাতীয় মৎস্য পদক পেয়েছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদি আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ তার হাতে পদক তুলে দেন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি শখের বসে করা মৎস্য খামারের এমন সাফল্যে খুশি স্থানীয়রাও।
দাগনভূঞা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম জানান, ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামের খামারে সর্বাধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষমুক্ত ও নিরাপদ মাছ এবং অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া গলদা চিংড়ি উৎপাদন করা হয়। এই খামার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আশপাশের বেকার যুবক-যুবতীরা মাছের খামার স্থাপন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে সফল মৎস্যচাষি হিসেবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন তিনি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হাছান জানান, ডা. আশরাফুল ইসলাম জেলা ও উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের পরামর্শে মাছ চাষ করে থাকেন। খামারের প্রাকৃতিক উৎস হালদা নদী থেকে রেণু সংগ্রহ করে উন্নত পদ্ধতিতে মাছের পোনা ও মাছ উৎপাদন করা হয়।
এ খামারে উৎপাদিত মাছ দাগনভূঞাসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডেও খামারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।
ডা. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, শখের বসে পতিত জমিতে শুরু করা খামারটি এখন ১৭ একর ছাড়িয়ে গেছে। ১৯টি ছোট-বড় পুকুরে রুই, কাতল, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, ব্ল্যাক কার্প, কমন কার্প, কালি বাউশসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করা হচ্ছে।
খামারে টেকনিশিয়ানসহ নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি কাজ করছেন। খামার সম্প্রসারণে মৎস্য অধিদফতরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে বাবা-মা, স্ত্রী ডা. হাসিনা আক্তার স্বপ্না, বন্ধু-স্বজন ও প্রতিবেশীরা বিভিন্নভাবে প্রেরণা জুগিয়েছেন বলে জানান ডা. আশরাফুল ইসলাম।
জাতীয় মৎস্য পদক অর্জনের সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ অনেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।