জাপান প্রবাসী স্বামীর সাথে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতেন সুলতানা পারভিন। জাপানে স্বামীর কাছে যাওয়ার সব প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বানানো একটি ভুয়া ভিডিও তার জীবনে নামিয়ে আনে এক বিপর্যয়। সমাজ ও সংসারের অপমানে আত্মহত্যা করেন নববধূ পারভিন।
রোববার (৬ এপ্রিল) স্বপ্নের পথচলা শেষ হয় পারভিনের। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সিদ্দিক আলীর মেয়ে সুলতানা পারভিন ওরফে সোহা (২৩)। ১০ মাস আগে বিয়ে হয় জাপান প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম অনিকের সাথে। বিয়ের পর স্বামীকে পেয়ে হাসিমুখে সংসার শুরু করেছিলেন তিনি। অনিক স্ত্রীর ভিসার কাজ শেষ করেছিলেন, ঠিক তখনই নেমে আসে অমানিশার ছায়া।
স্বজনদের অভিযোগ, অনিকের বোন জামাই পর্তুগাল প্রবাসী মোহাম্মদ নাহিন শেখ ওরফে মৃদুল এই বিয়ে মেনে নেননি। তিনি পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সুলতানার ছবি দিয়ে তৈরি করেন একটি আপত্তিকর ভিডিও। সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেন একটি ফেক আইডি থেকে। প্রথমে সুলতানাকে এবং পরে তার স্বামী অনিককেও পাঠানো হয় সেই ভিডিও।
এমন ভিডিওর কারণে সংসারে ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। পরে জানা যায় ভিডিওটি ভুয়া, এবং এর পেছনে ছিলেন নাহিন শেখ। ততদিনে সময় পেরিয়ে গেছে। দুনিয়া থেকে হারিয়ে গেছে পারভিন।
আত্মহত্যার আগে সুলতানা পারভিন একটি তিন পাতার সুইসাইড নোটে পর্তুগাল প্রবাসী নাহিন শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং ন্যায়বিচারের আবেদন জানান।
সুলতানার মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে ওরা শেষ করে দিয়েছে এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
নৌবাহিনীর কোস্টগার্ডে কর্মরত সুলতানার ভাই আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বোন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। আমরা ওকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে ভেতরে ভেঙে গিয়েছিল। একপর্যায়ে আমাদের সকলের অগোচরে চিরদিনের জন্য চলে গেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
সুলতানার স্বামী আশরাফুল ইসলাম অনিক ভিডিও কলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ওকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। সব কাগজপত্র ঠিক করে তাকে জাপানে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার বোন জামাই মেনে নেয়নি। তিনি পরিকল্পনা করেই এসব করেছে। আমি আইনিব্যবস্থা নেব।’
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আকবর বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মামলা করবে বলে আমাদের জানিয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি।’