লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা সীমান্তের ভেতরে ঢুকে ধান ক্ষেতে কাজের সময় হাসিবুল আলম নামে এক কৃষককের চোখে গুলি করে তাকে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পরে তার স্বজনদের কাছে মৃত্যুর খবর এসেছে।

বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সিঙ্গিমারী সীমান্তের ৮৯৪ নম্বর মেইন পিলারের সাব ৬ এস পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসিবুল আলম (২৪) ওই এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে।

কৃষক হাসিবুল আলমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসিবুলসহ কয়েকজন ওই সীমান্তে বাংলাদেশী জমিতে ধান ক্ষেতে কাজ ও ঘাস কাটতে যায়। এ সময় ভারতের শীতলকুচি এলাকার নগর সিঙ্গিমারী ক্যাম্পের বিএসএফের টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে বাংলাদেশী হাসিবুলকে আটক করে।

সূত্রের খবরে জানা যায়, চোখে গুলিবিদ্ধ হাসিবুলকে কুচবিহারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে বিএসএফ। সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

দূর থেকে দেখা প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ‘ভারতীয় বিএসএফ দল তাকে গাড়িতে তোলার সময় চোখে গুলি করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।’

এদিকে ভারতীয় কয়েকটিকে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, হাসিবুলের ডান চোখ গুলিতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে, মুখে অক্সিজেন লাগানো অবস্থায় তিনি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন। আরেকটি ভিডিওতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে ৬১ বিজিবির সিইও’র সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

হাতীবান্ধা থানার ওসি মাহামুদুন-নবি জানান, ঘটনার পর বিজিবি বিএসএফের মধ্যে বিকেল চারটার দিকে কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভারতে আটক আহত বাংলাদেশীর পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী লোকজন তাকে জানিয়েছেন হাসিবুল নামে এক যুবককে ভারতীয় বিএসএফ সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করেছে। ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।