ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বহুল আলোচিত হারুনুর রশিদ হত্যা মামলায় প্রায় আড়াই বছর পর চার্জশিটভুক্ত ১ নম্বর আসামি মজিবুর রহমান ওরফে সাগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জামিনে থাকা আসামিরা মামলা তুলে নিতে ও তাদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবার বড়বাড়ির হারুনুর রশিদ হত্যা মামলায় দীর্ঘ ২ বছর ৫ মাস পর পিবিআইয়ের তদন্তে চার্জশিটভুক্ত ১ নম্বর আসামি মজিবুর রহমান ওরফে সাগরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বাদীপক্ষের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল আসামিপক্ষের বাড়ির লোকজন নিহত হারুনুর রশিদের তিলের জমিতে ফুটবল খেললে এতে বাধা দেয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে নিহতের বাড়ির উঠানে এসে গালাগাল শুরু করে। হারুনুর রশিদ ঘর থেকে বের হয়ে গালমন্দ করতে বারণ করলে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে হত্যা করে বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ। প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে থাকা দেলোয়ার, আলাউদ্দিন, জিলানী ও লতিফুর রহমান উপস্থিত আসামিদের চিনতে ও শনাক্ত করতে সক্ষম হন বলে মামলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই দণ্ডবিধির ৪৪৭/৩০২/৩৪ ধারায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন মজিবুর রহমান ওরফে সাগর, বায়েজিদ, ফিরোজ মিয়া এবং আসমা আক্তার ওরফে রত্না।

মামলার ১ নম্বর আসামি মজিবুর রহমান ওরফে সাগর আদালতে জামিন নিতে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।

তবে তাদের অভিযোগ, অর্থ খরচ করে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

মামলার ২ নম্বর আসামি বায়েজিদ এখনো পলাতক। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের জোরালো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেছে বাদীপক্ষ।

অন্যদিকে, ৩ নম্বর আসামি ফিরোজ মিয়া ও ৪ নম্বর আসামি আসমা আক্তার ওরফে রত্না জামিনে বের হয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জামিনে থাকা আসামি ও তাদের পরিবারের লোকজন মামলা তুলে নিতে এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বিপুল অর্থ খরচ করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে বাদীপক্ষের পরিবারকে ‘দেখে নেয়া’ হবে বলেও হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের মতে, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া আসামিরা জামিনে বের হয়ে এলাকায় ফিরলে পুনরায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে। এ কারণে আসামিদের এলাকায় উপস্থিতি নিয়ে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

নিহত হারুনুর রশিদের পরিবার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচার এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একইসাথে হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত আসামিদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানিয়ে আইনমন্ত্রীর আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।