সৌদি আরবে থেকে মাসখানেক আগে দেশে ফেরেন মো: শওকত হোসেন (৩৪)। সাথে আনেন ১৪ হাজার সৌদি রিয়াল। তিনি ঢাকায় বাড়ি করতে চেয়েছিলেন। তবে প্রেমের ফাঁদে পড়ে সব টাকা খোয়ান তিনি। পরে থানায় অভিযোগের পর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘সৌদি প্রবাসী শওকত হোসেনের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই চক্রের অন্য দুই সদস্যকে গ্রেফতারে কাজ চলছে।
এর আগে, গত শনিবার রাতে তাকে নগরের পাটগুদাম আটাআনি পুকুরপাড় এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী প্রবাসী শওকত হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ি গ্রামে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম খলিলুর রহমান ওরফে সজল মিয়া (২৪)। তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা আছে।
শওকত হোসেনের সাথে গত ১০ দিন আগে মোবাইল ফোনে রুমা আক্তার নামে এক নারীর পরিচয় হয়। নারীর বাসায় দাওয়াত দিয়ে নেয়া হয় শওকতকে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরের পাটগুদাম এলাকার আটাআনী পুকুর পাড় এলাকার একটি বাসায় নিয়ে শওকত ও তার ভাইকে খাবার দিয়ে রুমের দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দু’জন লোক রুমে প্রবেশ করে কাঁচি ও ছুরি দিয়ে তাদেরকে আঘাত করতে থাকে। পরে রুমা আক্তার রুমে এসে বলে তোমাদের কাছে যা কিছু আছে তা তাড়াতাড়ি দিয়ে দেও নইলে তোমাদেরকে মেরে নদীতে ফেলে দেবে।
শওকত বলেন, ‘আমাদের দু’জনের পকেট থেকে দু’টি মোবাইল ফোন, বিদেশী মুদ্রা, ১১ হাজার টাকা নিয়ে নেয় তারা। মুক্তি দিতে বাড়ি থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরো ২০ হাজার টাকা নেন। মুক্তি দেয়ার আগে ইয়াবা সামনে রেখে দু’জনের ছবি ও ভিডিও, নারীর সাথে ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন। পাশাপাশি সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেন। পরে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ রাতেই খলিলুর রহমানকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে।’
এ ঘটনায় গতকাল রোববার খলিল, রুমা আক্তার ও তার স্বামী রকি মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে।