মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় একাধিক বাড়ি-ঘরে হামলার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। এ সময় ভুক্তভোগীর পাঁচ ভরি স্বর্ণালংঙ্কার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের মূলচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মূলচর গ্রামের নাসির হালদারের বাড়ির দরজা, টিনের বেড়া, থাই গ্লাস ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এছাড়া ঘরের ভেতরের স্টিল আলমারি, সুটকেচের কাপড় মেঝেতে ছড়ানো অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয়দের থেকে পাওয়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকালে দিঘীরপাড় এলাকার কিশোর গ্যাং গ্রুপের আলিফ (২০), ইয়াসিন (২২), সানি (২৩) , লিমন (২৩), ইসমাঈল (১৮), কোবা (১৬), নজু (১৬), রাতুল (১৭) হাতে চাকু ও কাঠের ডাসা নিয়ে ভুক্তভোগী নাসির হালাদারের বাড়িতে প্রবেশ করে।

প্রথমে তারা নাসির হালদারের টিন ও কাঠের তৈরি ঘরের বেড়ার কয়েক জায়গায় কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুলে ফেলে। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ সময় পাকা ভবনের একাধিক জায়গার থাই গ্লাস ভেঙে ফেলে। পরে গ্রামের ট্রলার চালক হবি হালদারের বাড়িতে যায় তারা। সেখানেও বাড়িঘর ভাঙচুর করে এ কিশোর গ্যাং।

ট্রলার চালক হবি হালদার (৬৫) বলেন, ‘আমি বাড়ির সামনের পদ্মা নদীতে ট্রলার চালাই। ওরা ট্রলার ঘাটে এসে প্রায় নেশা করে আর আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে আজ সকাল ৭ টার দিকে গালিগালাজ করলে নাসির হালদারকে জানাই। নাসির এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ওরা প্রথমে নাসির হালদার পরে আমার বাসায় হামলা চালায়।’

এ বিষয়ে নাসির হালদার (৫৫) বলেন, ‘আমি তাদের কাছে বকাবকির কারণ জানতে চাইলে ওরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এ ঘটনায় আমি ওদের শাসন করায় লোকজন নিয়ে এসে আমার বাড়িতে হামলা করে। এ সময় আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করে ঘরে থাকা পাঁচ ভরি স্বর্ণালংঙ্কার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আমি এর বিচার চাই।’

গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, এ কিশোর গ্যাং গ্রুপটি গত বছরের ৫ আগস্টের পরে এলাকায় খুব বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। তারা মাদক সেবন ছাড়াও বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। এছাড়া নদীতে তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়েরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে কিশোর গ্যাং গ্রুপের বক্তব্য নিয়ে চাইলে ওই এলাকায় তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ট্রলারঘাটে চড়-থাপ্পর মারাকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’