প্রিয়জনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। আর এ ঈদযাত্রায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩টি জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুতে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি যানবাহনের চাপ এখনো তেমনভাবে শুরু না হলেও মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ১৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর দু’প্রান্তে মোটরসাইকেলসহ মোট ২১ হাজার ৬২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে করে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত মিলে মোট টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ১৩ হাজার ৩০০ টাকা।
বুধবার (২৬ মার্চ) রাত ৮টার দিকে সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বুধবার পদ্মা সেতু এলাকায় দিনভর গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহনের বাড়তি চাপ তেমন একটা দেখা যায়নি। সকাল ৯টার আগে টোলপ্লাজায় ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ মিটারের মধ্যে যানবাহনের কিছুটা চাপ থাকলেও সকাল ১০টার পর থেকেই তা একেবারেই কমে যায়। এরপর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহাসড়কের টোলপ্লাজায় কোনো চাপ ছিলো না।
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় সাতটি ও জাজিরা প্রান্তে আটটিসহ মোট ১৫টি বুথ সার্বক্ষণিক সচল রয়েছে। এক্ষেত্রে মোটরবাইকগুলো প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে এবং অন্য বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস থেকে প্রতি আট সেকেন্ডের মধ্যেই টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ভোাগান্তিহীনভাবে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছে গণপরিবহনগুলোর যাত্রীরা। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দু’টি লেন তৈরি করে টোল আদায় করা হচ্ছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাওয়া প্রান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলসহ মোট ১৩ হাজার ৩৪৮টি এবং জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলসহ মোট আট হাজার ২৭৫টি যানবাহন পারাপার হয়।
এদিকে ঈদকে সামনে রখে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনগুলো দ্রুত পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে যানবাহন চলার নির্দেশনা দিয়েছে সেতু বিভাগ। আর এতে করে এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট না হওয়ার পাশাপাশি কোনো যানবাহনকে দীর্ঘসময় ধরে আটকে থাকতে হচ্ছে না। তবে ঈদের আগ মুহূর্তে আগামী দু’দিন থেকে যানবাহনের চাপ ব্যাপকহারে বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এছাড়া সেতুর দু’প্রান্তে যানবাহন ও মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড় ঠেকানোসহ টোল আদায় কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল রাখতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। একইসাথে ঈদের আগ মুহূর্তে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলাতে টোল প্লাজায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেবা দিতে তাদের দায়িত্বরত কর্মকর্তারাসহ সদা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে জানান, মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায় মোট ১৫টি টোল বুথ সব সময়ের জন্য চালু রয়েছে। এছাড়া আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ক্যামেরার মাধ্যমে গাড়ির নাম্বারসহ টোলের পরিমাণ সয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটার স্ক্রিনে অটো চলে আসায় খুব দ্রুত টোল আদায় করা সম্ভব হচ্ছে।
বুধবার সকাল ৯টার আগে টোলপ্লাজায় হঠাৎ করে আধা ঘণ্টার জন্য একসাথে বেশকিছু যানবাহন চলে আসে। এ সময় টোলপ্লাজায় ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ মিটারের মধ্যে যানবাহনের কিছুটা চাপ থাকলেও সকাল ১০টার পর থেকেই একেবারেই কমে যায়। এ সময় থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহাসড়কের টোলপ্লাজায় কোনো চাপ ও বিড়ম্বনা একেবারেই নেই বলে জানান তিনি।