মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হলো। আগামী রোববার (২৭ এপ্রিল) এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকালে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালত এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়।

মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটার মনিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করা হয়। চার্জশিটের ক্রমানুসারে বিচারক আগামী ২৭ এপ্রিল তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে বিচারক এম জাহিদ হাসান আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে চান কি না প্রশ্ন করলে তারা আইনজীবী নিয়োগ দিতে ইচ্ছুক বলে অনুরোধ করেন। এ সময় বিচারক তাদেরকে আইনজীবী নিয়োগ প্রক্রিয়া বুঝিয়ে দিয়ে জেল সুপারের মাধ্যমে লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করতে বলেন।

নারী ও শিশু নিযাতন দমন ট্রাইবুন্যালের পাবলিক প্রসিকিউটার আরো বলেন, প্রধান আসামি হিটু শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেও চার্জ গঠনের সময় হিটু শেখসহ সকল আসামি নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন।

এ মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশিত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবী প্যানেলের আহ্বায়ক শাহেদ হাসান টগর বলেন, আসামিদের পক্ষে মাগুরা বারের কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আজও আদালতে হিটু শেখদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে দেখা যায়নি। আমরা পাঁচ আইনজীবী মিলে রাষ্ট্রপক্ষে সার্বিক সহযোগিতা শুরু থেকে যেভাবে করছি শেষ পযন্ত করব।

নিহত শিশুটির মা বলেন, আজ চার্জ গঠনের শুনানি শেষে চার্জ গঠন করা হয়েছে। তিনজন সাক্ষীকে আগামী ২৭ তারিখে সাক্ষী দিতে আদালতে আসার দিন ধার্য করা হয়েছে।

শিশুটির পক্ষে মামলায় অংশগ্রহণ করেন আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার পরামর্শে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী। তিনি মাগুরা আদালতে উপস্থিত হয়ে বলেন, এই মামলাটি চাঞ্চাল্যকর একটি মামলা, যা দেশসহ বর্হিবিশ্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

এই মামলাটি যেন দীর্ঘায়িত না হয় সে ব্যাপারে বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটারকে সু-দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগপত্রের ধারা অনুযায়ী নারী ও শিশু নিযাতন দমন আইন ২০০০-এর সংশোধিত ২০০৩-এর ৯ এর ২ ধারা এবং প্যানাল কোডের ৫০৬ ও ২০১ ধারায় অভিযোগ গঠনের জন্য অনুরোধ করেন।

গত ১৩ এপ্রিল মাগুরায় আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

৬ মার্চ মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা মামলা দায়ের করে।