ভোলার লালমোহনে জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে জায়েদা বেগমের (৮০) অসহায় মানবেতর জীবনযাপন। কোথাও হোগলা পাতা, কোথাও ভাঙাচুরা টিন, কোথাও তেরপাল, আবার কোথাও ছেঁড়া বস্তা দিয়ে ঘরটিতে বেড়া দেয়া। ঘরের চালায় টিন থাকলেও সেই টিনের ওপরও দেয়া তেরপাল। এমনকি ঘরের দরজাটিও হোগলা পাতার। তবুও সেই ঘর ছাড়ছেন না বৃদ্ধা জায়েদা বেগম। ওই ঘর থেকেই শেষ বিদায় নিতে চান তিনি। যে কারনে জীর্ণ ঘরটিতেই সবর করছেন জায়েদা বেগম।
জায়েদা বেগম উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরমোল্লাজী গ্রামের হকু বেপারী বাড়ির মরহুম আব্দুল জলিলের স্ত্রী। প্রায় দেড় যুগ আগে মৃত্যু হয় তার স্বামীর। বর্তমানে বৃদ্ধা জায়েদা বেগমের আট মেয়ে রয়েছে, কোনো ছেলে। মেয়েরা থাকেন স্বামীর বাড়িতে। মাঝে মধ্যে তারা খোঁজ খবর নেন।
বৃদ্ধা জায়েদা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই তার তাই এ ঘরেই থাকতে হয় আমার। এই ঘরে মৃত্যু পর্যন্ত থাকতে হবে। তাই কষ্ট হলেও ভাঙাচুরা জরাজীর্ণ ঘরটিতেই থাকছি। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। তবুও স্বামীর রেখে যাওয়া ঘরেই কোনো রকম মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে বেঁচে আছি। তবুও মৃত্যু পর্যন্ত স্বামীর রেখে যাওয়া ঘর ছেড়ে কোথাও যাবো না।’
বৃদ্ধা জায়েদা বেগম আক্ষেপের সহিত বলেন, ‘এদেশের কোনো মেম্বার চেয়ারম্যান আমার মতো অসহায়ের খোঁজ খবর নেয়ার সময় পায় না, এই দুনিয়ায় যার আছে তার খোঁজ খবর সবাই নেয়। শুনেছি সরকারিভাবে বয়স্ক ভাতা দেয় তাও আমার কপালে জোটলো না। আমি টাকা পয়সা দিতে পারবো না বলে কেউই আমাকে ভাতা করাইয়া দেয়নি।’
এ দুনিয়ায় গরীব-অসহায়ের কেউ নেই বলতে গিয়ে চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়তে দেখা যায়।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্ষা শুরু হলে ঘরে থাকতে খুব কষ্ট হয় আমার।’
লালমোহন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পলাশ সমর্দার বলেন, ‘এখন জুন মাস, আমি স্যারের সাথে আলাপ করে দেখি তার জন্য কিছু করা যায় কিনা।’
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো: মাসুদ দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ওই বৃদ্ধা মহিলা আমাদের অফিসে এনআইডি কার্ড নিয়ে আসলে আমি তার নামে একটি ভাতা করে দেবো।’