টাঙ্গাইলের সখীপুরের বড়চওনা বাজার জামে মসজিদে টানা ৪৯ বছর বিনা পারিশ্রমিকে নামাজ পড়ানো ইমাম কারী হেলাল উদ্দিন (চানু কারি) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) বাদ আসর বড়চওনা মসজিদ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে বড়চওনা বড় মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে একই দিন সকাল ৭টায় তিনি নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। তার জানাজায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য মানুষ শরিক হয়ে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের ছোট ছেলে মুফতি আল-আমীন তালহা।
দাফন শেষে নয়া দিগন্তের সাথে কথা হয় মুফতি আল-আমীন তালহার সাথে। তিনি জানান, তার বাবা বড়চওনা বাজার জামে মসজিদে একাধারে ৪৯ বছর ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ দীর্ঘ সময় তিনি নির্দিষ্ট কোনো বেতন নেননি। বিশেষত শেষ ১১ বছর তিনি এক পয়সাও ইমামতির জন্য পারিশ্রমিক নেননি। ২০১৪ সালে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে গেলে নিজের ইচ্ছায় ইমামতির দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
আল-আমীন তালহা বলেন, আমার বাবা সবার কাছে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। অসংখ্য প্রবাসী তাদের পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতেন আমার বাবার ব্যাংক একাউন্টে। বিভিন্ন আমানতও রাখতেন তার কাছে। এতটাই বিশ্বস্ত ছিলেন আমার বাবা।
মরহুম ইমামের মেজো ছেলে হাফেজ সাখাওয়াত হোসেন জানান, তার বাবার আগে তার দাদা মরহুম আহমদ মুন্সি ৫৫ বছর ইমামতির পেশায় ছিলেন। তিনি বড়চওনা মসজিদের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে গেলে দায়িত্ব নেন তার ছেলে কারি হেলাল উদ্দিন। এরপরে তিনি একাধারে ৪৯ বছর ইমামতি করেন। মূলত তাদের পরিবার সদস্যরা মসজিদ-মাদরাসায় খেদমত করেছেন দ্বীনের প্রচার-প্রসারের লক্ষে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে আশপাশের বহু মানুষ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করেছেন বলেও জানান তিনি।
মরহুম ইমাম হেলাল উদ্দিনের মেয়ের জামাই ইউনূস বলেন, ‘আমার শশুর শুধু ইমামই ছিলেন না। সখীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ওয়াজ মাহফিলও করতেন। তিনি উপজেলার ভোয়াইদপাড়া এলাকায় একটি নৈশ স্কুল প্রতিষ্ঠা করে সেখানে বিনে পয়সায় শিক্ষা দিতেন।’
স্থানীয়রা জানান, মরহুম হেলাল উদ্দিন অত্যন্ত বুজুর্গ ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি যে ভালো মানুষ ছিলেন তার প্রমাণ এই মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও জানাযায় এত মানুষের উপস্থিতি। বিগত ১৫-২০ বছরে কারো জানাজায় এত মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি বলেও জানান স্থানীয়রা।