দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পীকার শিরিন শারমীন চৌধুরী ‘দক্ষিণ হস্ত’ বলে পরিচিত সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো: নাজির তার জামিন না মঞ্জুর করে আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন।
নুর মোহাম্মদ মণ্ডল পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং তিনবারের সাবেক এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান।
দুদক রংপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রুবেল হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে দুদক ২০২০ সালে ৩১৩০ একর ৭৩ একর জমি এবং অবৈধভাবে নয় কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জনের দায়ে মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তার জামিন বাতিল করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, গত ১০ মার্চ আদালতের আদেশে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক, মালিকানাধীন আনন্দনগর পিকনিক স্পটে সরকারি রিসিভার নিয়োগ এবং আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। তিনি একবার বিএনপি, দুইবার জাতীয় পার্টির এমপি থাকার পর শেষে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হন।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ‘সরকারি আদেশে থানার ওসি হিসেবে আমি তার বিনোদন কেন্দ্রের রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’
উল্লেখ্য, নুর মোহাম্মদ মণ্ডল ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে আবারো এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শেখ হাসিনার কাছে হেরে যান। ২০১৪ সালে বিএনপি থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে আবারো উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে নুর মোহাম্মদ মণ্ডল শত শক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী নিয়োগের নামে শতাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে ১০ কোটিরও বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ আছে।