চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার জাঙালিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিশু আরাধ্যা বিশ্বাসকে যখন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আইসিইউতে নেয়া হচ্ছিল, তখন তার বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা রাণীর মরদেহ শ্মশানের পথে। ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে তাদের বাড়ি।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে চিকিৎসকদের নির্দেশে সনাতন স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের সেবকরা তাকে আইসিইউতে নিয়ে যান।
সেখানে আগে থেকেই ছিলেন দুর্ঘটনায় আহত কলেজছাত্রী তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা (১৮)। সে নিহত রফিকুল ইসলাম-লুৎফুন নাহার দম্পতির মেয়ে। হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরাধ্যার মামাতো ভাই দুর্জয় কুমার বিশ্বাস (১৮)। সে কুষ্টিয়ার একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। আরাধ্যার কাকা অসিত কুমার বাড়ৈ ঝিনাইদহ থেকে এসে তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন। এসেছেন প্রেমার মামি জেসমিন রহমানও।
চিকিৎসকরা জানান, আরাধ্যার ভেঙে যাওয়া দুই পায়ে প্লাস্টার করে দেয়া হয়েছে। সে মাথায় আঘাত পেয়েছে। তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে প্রেমার শারীরিক পরিস্থিতি। এছাড়া দুর্জয়ের হাত ও পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। মাথায় আঘাত থাকায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখে আসেন। এ সময় আহতদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন এবং উপ-পরিচালক ডা: মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী।
তারা বলেন, ‘আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
এর আগে বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে লোহাগাড়ার জাঙালিয়া চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে মারা যান ১০ জন।
এদের মধ্যে একই পরিবারের ৫ সদস্য রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬) ও তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি (৩৫), তাদের দুই মেয়ে ৮ বছরের লিয়ানা এবং ১৪ বছরের আনিশা আক্তার, শামীমের ভাগনি ১৬ বছরের তানিফা ইয়াসমিন (১৬) নিহত হন।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের যাত্রী দিলীপ বিশ্বাস (৪৩) ও সাধনা রাণী মণ্ডল (৩৭) দম্পতি, দিলীপের ভাই ৬০ বছর বয়সী আশীষ মণ্ডল, মুক্তার হোসেন ও চালক ইউসুফ আলী (৫৫) মারা গেছেন। এর আগের দিন একই জায়গায় দুর্ঘটনায় ১জন এবং তারও আগের দিন ৫ জন মারা যান।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরদির্শন করেছেন উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতিক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: ইনামুল হাছান, সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ফরিদ উদ্দিন খান, বিএনপি নেতা নাজমুল মোস্তফা আমিন, শ্রমিকনেতা লুৎফর রহমান প্রমুখ।
এছাড়া মহাসড়কটি ৬ লেন করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা। চুনতী, আধুনগর, আমিরাবাদ ও পদুয়া ইউনিয়ন জামায়াত আলাদাভাবে এ কর্মসূচি পালন করে।