রংপুর শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদ্যুৎ মিয়া ও ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তিন দিনের মধ্যে দাবি না মানলে শাটডাউন কর্মসূচির হুমকি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে স্কুলটির প্রধান ফটক ব্লকেড করে এ কর্মসূচির হুমকি দেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

এ সময় সেখানে বক্তব্য রাখেন সাবেক শিক্ষার্থী ও মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক জামিল হোসেন, মো: সরোয়ার হোসেন, মো: আমান হোসেন, মো: ইয়াসিন ইসলাম নাজমুল, মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, মো: আসিফ মাহমুদ, বর্তমান শিক্ষার্থী মো: লাবিব, মো: শাফিউল ইসলাম, মো: রেদওয়ান কবির, মো: জাহিন হোসেন, মো: আহানাফ শাবাব প্রমুখ।

এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, স্কুলটির শিক্ষক বিদ্যুৎ মিয়া ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির লোক নৈপুন্য অ্যাপস দুর্নীতিতে কমল নামক ব্যক্তির মাধ্যমে ৪২ হাজার টাকা তুললেও স্কুল ফান্ডে জমা না দিয়ে ২০ হাজার আত্মসাৎ করেন। রশিদ অনিয়ম করে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রশিদের ৩০ হাজার টাকা অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, একাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রশিদ ছাড়াই টাকা গ্রহণ করে পরে বকেয়া হিসেবে দাবি করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা দুর্নীতি প্রকৃত বিল ৯৯ হাজার টাকা হলেও ভয় দেখিয়ে এক লাখ সাত হাজার টাকা আদায় করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন ওই সিন্ডিকেট।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টাই, সোল্ডার, আইডি কার্ড সরবরাহে অনিয়ম করে কমিটির অনুমতি ছাড়াই নিম্নমানের দ্রব্য উচ্চমূল্যে সরবরাহ করেছেন এই চক্র। বুকলিস্ট দুর্নীতি করে অনুমোদিত কমিটি বাদ দিয়ে এককভাবে বই পরিবর্তন করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্কুলের শিক্ষকরা দায়িত্বহীন। তারা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থেকে গল্প গুজব করেন। সময় মতো ক্লাসে যান না। ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস ছেড়ে মাঠে ঘোরাফেরা করলেও নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সঙ্ঘবদ্ধ বিদ্যুৎ মিয়া সিন্ডিকেটিটি স্কুলের ২০টি দোকান চুক্তি নবায়ন না করে মেয়াদোত্তীর্ণ দোকানের চুক্তি নবায়ন ও ভাড়া বৃদ্ধি করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও স্কুলের দোকান ও কক্ষ একজন পরিচালনা কমিটির সদস্য তার নিজস্ব অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘তিন দিনের মধ্যে সকল অভিযোগ তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনিব্যবস্থা গ্রহণ ও স্কুল পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, নৈতিকতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সুস্থভাবে পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নইলে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হবে।’

এদিকে, খবর শুনে সেখানে ছুটে আসেন এডিসি (সার্বিক) মো: রমিজ আলম। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগুলো শোনেন। এরপর তিনি ঘোষণা করেন আগামী তিন দিনের মধ্যে এডহক কমিটি গঠন করা হবে। সকল শ্রেণির শিক্ষককে সকাল পৌনে ৯টায় হাজিরা খাতা স্বাক্ষরসহ ছবি তুলে এডিসিকে (শিক্ষা) দিতে হবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার এর মধ্যে সিলেবাস সকল ছাত্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। বাকি ২১ দফা বাস্তবায়নে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেন জানান তিনি।