ফেনীর মহিপালে গৃহবধূকে জিম্মি করে বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ১৭ দিনেও মালামাল উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকি দু’জন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শহরের মহিপাল মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির হাজী আজিজ আহমদ সড়কের রেহান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় প্রবাসী মো: নুরুজ্জামানের বাসায় ঢুকে গৃহবধূ শাহানা আক্তারকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুষ্কৃতকারীরা। এ সময় তারা নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে মো: নুরুজ্জামান পরদিন দেশে ফিরে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সোহেল নামে এক ভ্যানচালককে গ্রেফতার করে। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

তবে ঘটনার ১৭ দিন পরও লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার না হওয়ায় এবং আরো কয়েকজনকে গ্রেফতার না করায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনার সাথে ভ্যানচালক সোহেল, তার ভাই সজীব ও সজীবের স্ত্রী ফাতেমা জড়িত। সোহেল ও সজীব আপন ভাই। সজীব ও তার স্ত্রী একই ভবনের তৃতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে তাদের সখ্যতা ছিল।

গৃহকর্তা মো: নুরুজ্জামানের দাবি, সজীব ও তার স্ত্রী ফাতেমা তাদের বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন এবং বাসায় কোথায় কী আছে, সে সম্পর্কে তারা জানতেন। ঘটনার আগে ও পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের তৎপরতা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সজীব বা ফাতেমার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

মো: নুরুজ্জামান বলেন, ‘এখানে সজীব ও সোহেল মিলে ডাকাতদের ভাড়া করে এ ঘটনা ঘটায়। এদের সাথে ফাতেমা সম্পৃক্ত ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়েছে কি না জানি না। কিন্তু মূল দুই ডাকাত সদস্যকেই গ্রেফতার করা হয়নি। পাশাপাশি এখনো সজীব ও তার স্ত্রী ফাতেমাকে আটক করা হয়নি। তারা জড়িত। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হবে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: অলি আহাদ বলেন, ‘লুট হওয়া নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ডাকাত সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আর সজীব বা ফাতেমার কোনো সম্পৃক্ততা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য দুইজনকে গ্রেফতারে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’