জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ভেঙে দু’ভাগে বিভক্ত করার প্রতিবাদে দেশের অন্য কাস্টমস হাউসের মতো বেনাপোল কাস্টমস হাউসেও তিন দিনের কর্ম বিরতি পালন করা হচ্ছে। এতে বন্ধ রয়েছে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য।

বুধবার (১৪ মে) সকাল ১০টা থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই কলম বিরতি চলবে। তিন দিনের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন সংস্থাটির কাস্টমস ভ্যাট ও আয়কর শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্ল্যাটফর্ম এনবিআর ঐক্য পরিষদ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

ঘোষণায় কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু বলেন, বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা এবং শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে কর্মকর্তারা কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। বেনাপোল কাস্টম হাউসে কলম বিরতি চলাকালীন বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দেখা যায়নি। দু’একজন উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো কাজ করছেন না। কাস্টম হাউসের প্রধান ফটকে কলম বিরতির ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। লক করা আছে কাস্টমস হাউসের অনলাইন সার্ভার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন সার্ভার বন্ধ থাকার কারণে আমদানি রফতানি সংক্রান্ত কোনো বিল অব এন্টি দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না। বেনাপোল কাস্টমস হাউজে শুল্ক আদায় সংক্রান্ত সকল ধরনের কাজ ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তবে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা চালু আছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাজন হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, এনবিআর ইউনিট কাউন্সিল অধ্যাদেশটি বাতিল চাই। কারণ এনবিআর উপদেষ্টা সংস্কার কমিটির প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। ইউনিটের সাথে কমিটির আলোচনা ও অধ্যাদেশ প্রতিফলিত হয়নি। এনবিআরকে ভেঙে জাতীয় রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ এই দু’টি ভাগে ভাগ করছেন সরকার। দু’ভাগে বিভক্ত করার কারণেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই দেশের অন্য কাস্টমস হাউসের মতো বেনাপোল কাস্টমস হাউসেও কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি চলবে।