চট্টগ্রামের ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দফতর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল দ্বিতীয় দিনের মতো পালিত হচ্ছে। হরতালে ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ এলাকার একাধিক আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, বালুটিলা, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার বেশির ভাগ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে জরুরি সেবা যেমন—ফার্মেসি, ক্লিনিক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

হরতাল সমর্থকরা ঢাকা-বারৈয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজী দিঘী-হেয়াঁকো সড়কের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে সড়ক অবরোধ করে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং করেন আন্দোলনকারীরা। এতে দীর্ঘ সড়ক জুড়ে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ নানা দূরপাল্লার ও স্থানীয় যানবাহন আটকা পড়ে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সাংবাদিক আরাফাত বিন হাসান বলেন, ‘একটি প্রস্তাবিত উপজেলার প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবে সদর দফতর ভুজপুর মৌজায় নির্ধারণ করা হয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে উপজেলা সদর করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণে চার ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষকে সংঘাতের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।’

আন্দোলনকারী স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর ও হাসান শামসুদ্দীন জানান, উপজেলার নাম যখন ফটিকছড়ি উত্তর, তখন সদর দফতরও উত্তরাঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধাজনক স্থানে হতে হবে। জালিয়াতি ও বৈষম্যের মাধ্যমে জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোনো ভাঙচুর, সংঘর্ষ বা আটকের ঘটনা ঘটেনি।

সার্বিক বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশসহ অন্য বাহিনী মাঠে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং জরুরি সেবাগুলো স্বাভাবিক চলাচল করছে।’

এ বিষয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো: তারেক আজিজ বলেন, ‘হরতালের প্রথম দিন থেকেই আমরা মাঠে সক্রিয় রয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই হরতাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে।