কুষ্টিয়ায় জব্দ করা বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো ব্র্যান্ডের গাড়িটি ভারতে খুন হওয়া সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের বলে দাবি করেছেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। সেই সাথে গাড়িটি ফেরত চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে ডরিন সাংবাদিকদের মোবাইলে এ কথা জানান।

এর আগে সোমবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের ‘সাফিনা টাওয়ার’ নামে একটি আটতলা ভবনের পার্কিং থেকে ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো ব্র্যান্ডের (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১২-৬০৬০) গাড়িটি জব্দ করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। আনার ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি)।

ডরিন জানান, গাড়িটি তার বাবা কারো কাছে বিক্রি করেননি এবং তার বাবার মৃত্যুর পর থেকেই গাড়িটির কোনো খোঁজ ছিল না। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের মোবাইলে জানান- তাদের কথপোকথনের একটি অডিও রেকর্ডে ডরিনকে বলতে শোনা যায়, গত রাত থেকে গাড়িটির ছবি ও সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। গাড়ির নম্বরটি দেখে নিশ্চিত হয়েছি এটি বাবার গাড়ি। গাড়িটি আমাদের। আমরা এটি কারো কাছে বিক্রি করিনি। তবে গাড়িটি ওইখানে কেন, সেটাও জানি না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাবা যে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন, তাতে আমাদের গাড়ির কথা মনেই ছিল না। ৫ আগস্টের ঘটনার পর আমরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে গাড়িটা আমরা নিজেদের মধ্যে খোঁজাখুঁজি করছিলাম। নিজেদের মতো করেই এ নিয়ে খোঁজ নিচ্ছিলাম।’

ডরিন আরো বলেন, ‘আমার বাবার ডেথ সার্টিফিকেট ও ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এখনো পাইনি। কিছুদিন আগেও ভারত থেকে ঘুরে এলাম। বাবার জানাজাটা পর্যন্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। যেহেতু বাবার হঠাৎ করেই এমন দুর্ঘটনা হলো। তারপর থেকে আমাদের মাথায় গাড়ির বিষয়টি ছিলই না।’

গাড়ি পাওয়ার ব্যাপারে ডরিন আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। তবে আমাদের গাড়িটি ফিরে পেতে তাদের সহায়তা নেব।’

এদিকে পরে আর কারো কল রিসিভ করেননি নিহত আনোয়ারুল আজীম আনারের একমাত্র মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফয়সাল মাহমুদ জানান, গাড়িটি জব্দ করে ওই ভবন মালিকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। তবে গাড়িটি ঝিনাইদহের সাবেক এমপির কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কাগজগুলো বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তবে অফিস ছুটি থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, জেনুইন লিফ কোম্পানি নামের একটি সিগারেট কোম্পানি দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এই মুল্যবান গাড়িটি রাখার ব্যবস্থা করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এই গাড়ি কয়েকমাস ধরে এখানে রাখা হয়েছে। ফ্লাটের মালিক এ বিষয়ে কিছুই জানে না।

ওই ভবনের কেয়ারটেকার আলমগীর হোসেন জানান, জেনুইন লিফ কোম্পানি নামের একটি সিগারেট কোম্পানি কয়েকটি তলা ভাড়া নিয়েছে। সেখানে ফরেনাররা আসেন, থাকেন ও খাওয়া দাওয়া করেন। তারাই গাড়িটি রাখার ব্যবস্থা করেছেন।

ওই ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী জানান, উনারা গাড়ি এনে রাখেন। আমি জানি না যে গাড়িটা কার। আজ শুনছি গাড়িটা এক এমপির। সিগারেট কোম্পানির অফিসের স্যাররা এই গাড়িটি রেখেছে বেশ কয়েক মাস আগে। গাড়ি বাইরে বের করা হয় না। তবে মাঝেমধ্যে স্টার্ট দেয় চালক শান্ত।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সাফিনা টাওয়ারের মালিক, জেনুইন লিফ টোব্যাকোর সিইও জাহিদ ও জিএম বেলালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানা পত্রে আনোয়ারুল আজীম আনারের নাম উল্লেখ রয়েছে।

সাফিনা টাওয়ারের ফ্ল্যাট মালিক ও ভাড়াটিয়ার চুক্তিপত্র অনুযায়ী মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌরসভার বাঁশবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মো: মোস্তাফিজুর রহমান ভবনের তিনটি ইউনিট ও তিনটি গাড়ির পার্কিং স্পেস ভাড়া নেন। গাড়িটি বর্তমানে মোস্তাফিজুর রহমানের পার্কিং স্পেসে রয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ভাড়া নিয়েছেন তিনি।

মোস্তাফিজুর রহমান কুষ্টিয়ার দশ মাইল এলাকায় অবস্থিত ‘তারা টোবাকো’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার বলে জানা যায়।