বান্দরবান শহরের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে মারমা তরুণ-তরুণীদের জলকেলি ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য আর বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বর্ষবরণ সাংগ্রাই উৎসব।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ উৎসব শেষ হয়। এর আগে ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হয় উৎসব।

বান্দরবানের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটক, দর্শনার্থী ও উৎসবপ্রেমীরা শেষ দিনের বর্ষবরণ সাংগ্রাইয়ের আনন্দ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। পুরো মাঠ জুড়ে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। একদিকে চলছে মারমা তরুণ তরুণীদের জলকেলি অন্যদিকে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য আর নানা পরিবেশনা।

পাহাড়ে বর্ণিল এই উৎসব আয়োজনের এসব পর্ব মুগ্ধ হয়ে দেখছিলেন ঢাকা থেকে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশী অতিথিরা। এ সময় উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।।

এছাড়া পিঠা তৈরি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভরপুর ছিল পুরো এলাকা। শুক্রবার শেষ দিনে নেচে গেয়ে একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উদ্দীপনায় সাংগ্রাই উৎসব পালন করেছে বান্দরবানের মার্মা সম্প্রদায়। উৎসব আয়োজনে বর্ণিল ছিল পুরো রাজার মাঠ ও আশেপাশের এলাকা।

শেষ দিনের উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর মিখাইল মিলর, ইতালির অ্যাম্বাসেডর অ্যান্থনীয় এলিসেনড্রো, ডেনমার্কের চার্জ অফ অ্যাফেয়ার্স এড্রি কারেসটেন্স, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কনকন চাকমা, জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার মো: শহীদুল্লাহ কাওছার।

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অধিদফতরে কর্মকর্তা ও উৎসব উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, ‘চর্চা ও সংরক্ষণের অভাবে পাহাড়ের অনেক ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি হারাতে বসেছে। এগুলোকে সংরক্ষণ ও রক্ষা করতে মন্ত্রণালয় সব ধরনের উদ্যোগ নিবে।’