ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৃথক দুটি ঘটনায় বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এক শিশু ও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম বাজার এলাকায় ‘আকন ভিলা’র পাঁচতলা ছাদ থেকে নিচে পড়ে খবিরউদ্দিন মিয়া (৭৫) নামে বিজিবির এক অবসরপ্রাপ্ত সদস্য নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরের মর্গে প্রেরণ করে।

তিনি ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের ভাসরা গ্রামের গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিন মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আকন ভিলার পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলায় দুই ছেলে নিয়ে বসবাস করতেন খবির উদ্দিন। ২৫ বছর আগে স্ত্রী মারা যায় তার।

নিহতের ছেলে শাহীন মাহমুদ বলেন, দু’বার স্ট্রোক করায় কিছুটা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তার বাবা। তবে কি কারণে ছাদ থেকে পড়ে তিনি মারা গেলেন তা জানতে পারেননি।

অপর ঘটনায় ভাঙ্গা পোস্ট অফিসের পাশে সাবেক সেনা সদস্য আবদুল হালিমের ‘স্বর্ণালী বর্ণালী’ নামের চার তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ইমন (১০) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র নিহত হয়েছে। ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

তার আগে গত সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে ছাদ থেকে পড়ে আহত হয় সে।

ওই ভবন মালিক আব্দুল হালিমের স্ত্রী বলেন, ‘ইমন ও তার দুলাভাই গত সোমবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে আমাদের চারতলা ভবনের ছাদে উঠে বাউন্ডারির পাশে দাঁড়িয়ে পাশের ভবনের ফুল গাছের ছবি তুলতে গেলে পা পিছলে ইমন নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তাকে ভাঙ্গা হাসপাতালে নেয়ার পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তিন দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বুধবার রাতে মারা যায় সে।’

নিহত ইমন সৌদি প্রবাসী ইমরান মিয়ার একমাত্র ছেলে। তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার শৈডুবি গ্রামে। ইমন ও তার দু’বোনকে নিয়ে ওই ভবনের তিনতলায় ভাড়া থাকতেন তার মা।

এব্যাপারে ভাঙ্গা থানার এসআই মামুন খান বলেন, নিহত খবিরউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এছাড়া ইমনের লাশ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।