জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্ব যেমন তরুণ নির্ভর থাকবে, তেমনি যারা অগ্রজ বা সিনিয়র রয়েছেন তারাও অবশ্যই থাকবেন। যাদের গ্রহণযোগ্যতা, যোগ্যতা, সততা রয়েছে ওই এলাকা ভিত্তিতে তারাই নেতৃত্বের জায়গায় আসবেন। আমরা মনে করি, আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তরুণদের এ সাহস, উদ্যোম ও দৃঢ়তা যেমন দরকার একইভাবে অগ্রজদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য বেশি প্রয়োজন। এনসিপিতে আমাদের অগ্রজ ও তরুণরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে। এটি করতে পারলে আমরা সফলতার দিকে এগিয়ে যাব।’
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে রংপুর কারাতি অব কারা মতিয়া মসজিদ মাঠে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জেলা মহানগর এনসিপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদের ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিতে পারি। এটি আমাদের লক্ষ্য। তা করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। তবে এটি বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।‘
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আজকে থেকেই দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করছি। ঈদের পরে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় চলে যাব। জেলা ও উপজেলার কমিটি এপ্রিলের মধ্যেই দেয়া হবে। প্রত্যেকটি জেলা ও উপজেলায় অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। যারা নতুন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। যারা মনে করে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণদের সামনের দিনে বাংলাদেশের জেলা-উপজেলায় নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা রয়েছে এবং পুরো দেশকে একসাথে নেতৃত্ব দিতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ২৭-২৮টি দেশ একসাথে একটা দেশের মত ফাংশন করছে। ইতিহাসের শতশত বছর আগে থেকেই আন্ত:দেশীয় কিংবা আন্ত:অঞ্চলভিত্তিক আদান-প্রদানের যে সম্পর্ক সে সম্পর্কগুলো থাকে। এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দরগুলোতে এ সম্পর্ক রয়েছে। আরব সাগর কেন্দ্রিক আটলান্টিক ও প্রশান্তমহাসাগর এবং উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার যে পোর্টগুলো রয়েছে সেগুলোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে আসছে। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করি, সমুদ্র কিংবা নদীকেন্দ্রিক এ আন্তদেশীয় যে সম্পর্ক ও ব্যবসা-বাণিজ্য সেগুলো থাকবে। কিন্তু এগুলো সমতার ভিত্তিতে হতে হবে। পারস্পরিক যে রাষ্ট্রগুলো তাদের মধ্যে এ শ্রদ্ধা ও সম্পর্ক থাকতে হবে।’
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক থাকবে না এমনটি নয়। সম্পর্কটি থাকতে হবে শ্রদ্ধা ও সমতার। এ সম্পর্ক থেকে যদি কেউ কারো জায়গা থেকে ডমিনেট করার চেষ্টা করে আমরা সেই চোখ রাঙ্গানি আর দেখবো না। আমরা মনে করি বাংলাদেশের সাথে ভারত, রাশিয়া, আমেরিকা, চায়নাসহ যেকোনো দেশের সাথে এ সমতা ও সম্পক থাকবে। এ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সম্পকের ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। এভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং পৃথিবী এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পুরো রংপুরবাসীর একটা প্রত্যাশা আছে, বিগত ১৬ বছরে যে বাজেট, সুযোগ-সুবিধা ছিল তা অঞ্চলভিত্তিক। দক্ষিণাঞ্চল সবসময় প্রায়োরিটি পেয়েছে। এটি ছিল লবিংভিত্তিক। যে যার মতো ক্ষমতার ব্যবহার করে লবিং করে বাজেটগুলো নিজের জায়গায় নিয়ে গেছে। আমরা মনে করি, এ অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের যে দক্ষতা দেখাচ্ছে তারা একই দক্ষতা জাতীয় বাজেটে দেখাবে।’
সারজিস বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের মানুষ এতদিন পর্যন্ত দিয়ে এসেছে। এ অঞ্চল ছিল একটা উৎপাদন ক্ষেত্র। ফসল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও শস্য সবগুলো উত্তরবঙ্গে উৎপাদন হয়। কিন্তু পাওয়ার সময় আমাদের যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু পাইনি। রংপুর বিভাগের মানুষের যতটুকু প্রাপ্য এ অন্তর্বর্তী সরকার ততটুকু প্রাপ্য তাদের জন্য অবশ্যই বরাদ্দ রাখবে বলে আশা করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বৈষম্য করে, অন্যায় করে, অত্যাচার করে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। তার উপযুক্ত প্রমাণ হচ্ছে শেখ হাসিনা। আমরা প্রত্যাশা করি, এ বাংলাদেশের জন্য রংপুরের মানুষের যতটুকু কন্ট্রিবিউশন সে অনুযায়ী তাদের প্রাপ্যটুকু এখন থেকে যেন পায়। সেটি যদি হয় তাহলে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’