চার্জশিট দেয়া পর্যন্ত জামিনে মুক্ত হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মুদি দোকানী হত্যা মামলায় গ্রেফতার রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নীল দলের নেতা মাহমুদুল হক।
রোববার (২২ জুন) সন্ধ্যায় তিনি রংপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর আগে বিকেলে যুগ্ম মহানগর প্রথম আদালতে তার জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক মার্জিয়া খাতুন চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত মাহমুদুল হকের জামিন মঞ্জুর করেন। মানলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২ জুলাই।
এর আগে বৃহস্পতিবার নগরীর ধাপ নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে জুলাই বিপ্লবের সময়ে ২ আগস্ট নিহত মুদি দোকানের ছমেছ উদ্দিন হত্যা মামলার ৫৪ নম্বরে এজাহার ভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ১৮ জুলাই গুলিতে নিহত অটোচালক মানিক মিয়া হত্যা মামলার ১৯ নম্বর এজাহার ভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়। তাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলন প্রতিহত করতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এবং বাইরে অভ্যন্তরে পুলিশ পাহারায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, তাতি লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ ও সহেযাগি সংগঠনের সশস্ত্র কর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী অস্ত্র নিয়ে সরাসরি অংশ গ্রহণ করে। যেসসবের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সারা দুনিয়া দেখেছ। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীর নামেও মামলা হয়েছে। সুতরাং এসব বিষয়ে পুংখানুপুংখভাবে তদন্ত হওয়া দরকার। এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা দরকার। যেহেতু মাহমদুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সম্মানিত শিক্ষক। কিন্তু তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ঘটনার অটোচালক মানিক হত্যা মামলার ১৯ এবং মুদি দোকানী সমেশ উদ্দিন হত্যা মামলার ৫৪ নম্বর আসামি। সেকারণে তাঁকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে পুলিশী হেফাজতে নিয়ে এজাহার নামীয় দুটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আমরা আদালতে সোপর্দ করেছি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে রোববার তার জামিনের জন্য আবেদন করেন আইনজীবীরা। আদালত চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।