স্বাস্থ্যসেবায় দুর্নীতি, দায়িত্বে গাফিলতি, টেস্ট বাণিজ্য ও রোগীর সাথে দুর্ব্যবহারসহ বিস্তর অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানকে বদলি করা হয়েছে।

তবে বদলি ঠেকাতে স্থানীয় একটি ‘চক্র ভাড়ায় লোক জড়ো’ করে মহাসড়ক অবরোধ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের আশোকাঠী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. মনিরুজ্জামানের পক্ষ নিয়ে কয়েকটি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ‘দালালরা’ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে লোক ভাড়া করে মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এতে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ে। যাত্রীদের ভয়াবহ ভোগান্তি হয়।

এসময় মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানালে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাবেদ সেলিম, ছাত্রদল নেতা পারভেজ আকনসহ পাঁচজন আহত হন। পরে এলাকাবাসী একত্র হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে ভাড়াটে লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ডা. মনিরুজ্জামান সরকারি ল্যাব থাকা সত্ত্বেও বাইরের নির্দিষ্ট প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের টেস্ট করাতে বাধ্য করেন। এ জন্য তিনি প্রতি টেস্টে কমিশন গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের বদলে তিনি কমিশন বাণিজ্যে লিপ্ত বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

গৌরনদী বিআরডিবির চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, বদলি ঠেকাতে সরিকল ও নলচিড়া ইউনিয়ন থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে দিয়ে লোক জড়ো করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের চাপ দিয়ে অবরোধে আনা হয়।

স্থানীয় ছাত্রদল নেতা কাজী সোহাগ বলেন, ‘আমরা রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দিতে বললে ভাড়াটে লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় পারভেজ আকনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।’

এ ঘটনায় গৌরনদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন পাইক দাবি করেন, ‘হামলায় আমাদের পক্ষের নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।’

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. তৌকির আহমেদ বলেন, ‘বদলির বিষয়ে পুনর্বিবেচনার দাবিতে আমরা ৫-৭ মিনিটের জন্য অবস্থান নিয়েছিলাম। তবে উচ্চপর্যায়ের কোনো অনুমতি ছিল না। পরে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালানো হয়।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইউনুস মিয়া বলেন, ‘ঘটনায় ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মনিরুজ্জামানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ১৪ জুলাই সকালে ‘সর্বস্তরের জনতা’ ব্যানারে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উপজেলা হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। সেদিন সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রজ্ঞাপনে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজিতে লেকচারার হিসেবে বদলি করা হয়। পাশাপাশি মো: শাহতা জারাব সালেহিনকে নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়।