নবগঠিত ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দফতর স্থাপনের স্থান নির্ধারণসংক্রান্ত সরকারি গেজেট ও পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতার ওপর দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস-কো) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসাথে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে।

গত রোববার (২৬ জুলাই) বিচারপতি মো: হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জারি করা এক গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দফতর উস্তি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রজ্ঞাপনটি ৮ জুলাই প্রকাশিত হয়। পরে ১৪ জুলাই এই সংক্রান্ত আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

গেজেটের ৩ নম্বর ক্লজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো: মাহবুবুর রহমান (ফুরকান)-সহ আটজন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত দুই মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: মিজানুল হক চৌধুরী।

এদিকে, পাগলা থানাকে উপজেলা হিসেবে উন্নীত করার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফরিদুজ্জামান ফরিদসহ স্থানীয়রা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দক্ষিণ গফরগাঁও নামে নতুন উপজেলা গঠন করলেও সদর দফতরের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে সদর দফতর স্থাপনের কার্যক্রম আপাতত দুই মাসের জন্য স্থগিত থাকছে।