বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম নির্দোষ প্রমাণ হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাসে মুক্তি পাওয়ায় আনন্দে উজ্জীবিত রংপুর বিভাগের নেতাকর্মীরা।
তারা আশা করছেন, এ টি এম আজহারুল ইসলাম জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে এই অঞ্চলের বৈষম্য ও এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন। এজন্য তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। এছাড়া মিথ্যা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (২৮ মে) খালাসে মুক্তি পাওয়ায় শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বিকেলে রংপুর মহানগরীসহ বিভাগের প্রতিটি জামায়াত কার্যালয়ে শোকরানা ও দোয়া মাহফিলের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুঃস্থদের মাঝে খাবারও বিতরণ করা হবে।
রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার বাতাসন ডাক্টারপাড়ার বাড়িতে গিয়ে গেছে, ‘বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বছরের পর বছর ওই বাড়িতে কেউ থাকেন না। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে পড়ালেখা করে প্রবাসে থাকেন।
এ সময় বড় ভাই আব্দুল আউয়ালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর আল্লাহর কাছে চোখের পানি ফেলেছি। ভাইটাকে ইসলামি আন্দোলন করার কারণে জালিম আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা মিথ্যা সাজানো মামলা ও সাক্ষী দিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে। আজ সেই চোখের পানির অবসান হলো।’
তিনি বলেন, ‘বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপকার করেছিলেন তিনি। আল্লাহর রহমতে দেশবাসীর সহযোগিতায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। আবারো এখানকার মানুষের সেবা করবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাই যারা এই মিথ্যা সাজানো মামলা ও সাক্ষী দেয়া এবং বিচারের সাথে জড়িত ছিল, শেখ হাসিনাসহ যারা এই সাজানো রায় দিতে বাধ্য করেছিলেন সবার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনিব্যবস্থা নেয়া হোক।’
বদরগঞ্জ উপজেলা আমির কামারুজ্জামান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আজহার ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা মামলার সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি মুক্তি পেয়েছেন। হাসিনা সরকার ফরমায়েশি রায় দিয়ে আজহার ভাইকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আল্লাহ তাকে দেশবাসীর সহযোগিতায় মুক্ত করে দিয়ে দেশবাসীর সেবায় কবুল করে নিয়েছেন। বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জবাসী আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে যেভাবে নিষ্পেষিত ও নির্যাতিত ও শোষিত হয়েছে, এবার আজহার ভাইয়ের নেতৃত্বে সেই বন্দিদশা থেকে মুক্ত হবে, ইনশা-আল্লাহ।’
রংপুর মহানগর জামায়াত আমির এ টি এম আজম খান বলেন, ‘মহান আল্লাহর জন্য শুকরিয়া করছি। একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত তিনি আমাদের দিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট, দুর্নীতিবাজ, গণতন্ত্র, দেশের শত্রু পতিত আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সরকার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জাতীয় রাজনীতিবিদ এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায় দিয়ে কারাগারে রেখে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। আল্লাহর রহমতে আইনি লড়াইয়ে নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় জালেমের কারাগার থেকে তিনি এখন মুক্ত।’
তিনি বলেন, ‘এজন্য মহান আল্লার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, এই দেশবাসীর প্রতি। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, রংপুরবাসীর প্রতি। যারা এই মামলায় বিভিন্নভাবে আইনি লড়াইয়ে তাদের মেধা-মনন, বুদ্ধি-বিবেক ও তথ্য উপাথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।’
এ টি এম আজম খান বলেন, ‘আজহার ভাইয়ের মুক্তি, আমাদের জন্য আনন্দের এবং বিভাগের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আজহার ভাইয়ের হাত ধরে এগিয়ে যাবে। উত্তরাঞ্চলে বৈষম্য দূরীকরণে আজহার ভাই জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সব রাহবার হয়ে কাজ করবেন।’
রংপুর জেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আল্লাহ জালিমের কারাগার থেকে মুক্ত করেছেন মজলুম জননেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে। তিনি নির্দোষ প্রমাণ হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে শেখ হাসিনা কীভাবে বিচারালয়কে ব্যবহার করে ইসলামী আন্দোলনের দেশের সব থেকে গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদদের জুডিশিয়াল কিলিং করেছেন। কিন্তু আল্লাহর কী শান, তিনি নিজেই পালিয়ে গেছেন। আজহার ভাইয়ের নির্দোষ খালাসে আমরা উজ্জীবিত। আমরা আজহার ভাইয়ের নেতৃত্বে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ করতে চাই।’
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল জানান, ‘শেখ হাসিনা চেয়েছিল, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিবিদ, হক্কানী আলেম জামায়াত নেতাদের মিথ্যা মামলায় সাজানো রায় দিয়ে হত্যা করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে। কিন্তু তিনি পারেননি, পালিয়ে গিয়েছেন। আমরা চাই, যারা যারা এই সাজানো রায়ের নির্দেশনা এবং রায় দেয়া ও কার্যকরের সাথে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেয়া হোক। আজহার ভাইয়ের নেতৃত্বে উন্নয়ন বঞ্চিত রংপুর বিভাগে বৈষম্য দূর হবে এই প্রত্যাশা আমাদের।’
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন জানান, ‘ফরমায়েশি রায় দিয়ে জামায়াতের ১১ নেতাকে জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে। এভাবে শেখ হাসিনা ন্যায়বিচারকে গণহত্যা করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘এ টি এম আজহারের মুক্তির রায়ে প্রমাণিত সত্যকে চেপে রাখা যায় না। মহান আল্লাহর রহমতে রংপুর বিভাগের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিশোধের রাজনীতির, বৈষম্যের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নের সেনানী হয়ে কাজ করবেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
মাওলানা মমতাজ উদ্দিন জানান, ‘বুধবার বাদ আসর রংপুর মহানগর জামায়াত অফিসসহ বিভাগের প্রতিটি জামায়াত অফিসে আজহার ভাইয়ের মুক্তি উপলক্ষে শোকরানা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।’
রংপুর-০২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি আনিছুল ইসলাম মণ্ডল জানান, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি খুশি। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে পতিত সরকার সব সময় বিরোধী, ভিন্নমত পোষণকারীদের স্বৈরাচারী কায়দায় দমন করত। আদালতকে ব্যবহার করত। এ টি এম আজহারুল ইসলামের খালাসের রায়ে সেটি প্রমাণিত। এটা একটা সিম্বল। আশা করি, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এদেশের মঙ্গলের জন্য তার সবোর্চ্চটা দিবেন।