মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার মদনে সহকারী শিক্ষিকাকে মারধর ও ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: জিয়াউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, নেত্রকোনা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩৯(১) বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে গত ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আক্তার মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ৪ আগস্ট তার মা অসুস্থ হয়ে স্ট্রোক করায় এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে নেত্রকোনায় যান। পরদিন অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি।

৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর আগের দিন অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: জিয়াউল হকের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জ্যোৎস্না আক্তার।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, তদন্তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: জিয়াউল হক কর্তৃক সহকারী শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আক্তারকে মারধর ও ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো: রোজা আলী মিয়া ও মো: আব্দুল কুদ্দুস এবং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোছা: ইয়াসমিন আক্তারও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মো: জিয়াউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অফিস আদেশে আরো বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা (Subsistence Allowance) প্রাপ্য হবেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: জিয়াউল হকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।