বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী ইশতিহার ছিলো খাল খনন কর্মসূচি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ থাকলেও ফরিদপুরের সালথায় ছিলো ভিন্ন চিত্র। এখানে বিএনপিসহ সাধারণ মানুষ খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। খাল খননে সব খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন। বিষয়টি জানার পর রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ সকলের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

উপজেলা পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি খাল ৪.৫৩৫ কিলোমিটার পুনঃখননে মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ ছিলো। ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম খাল খনন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি খাল খনন কাজের প্রশংসা করেন। প্রায় তিন মাস পর খাল খননের কাজ শেষ হয়। শ্রমিকসহ সকল খরচ মিটিয়ে অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩ শত ৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।

খাল খনন কর্মসূচির পিআইসি কমিটির কয়েকজন সদস্যের সাথে কথা হলে তারা জানান, ইউএনও স্যার অনেক ভালো মনের মানুষ, খাল খনন কাজ করার সময় তিনি নিয়মিত কাজ তদারকি করতেন। আমাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন। খাল খননে শ্রমিকসহ সকল বিল তিনি যথা নিয়মে পরিশোধ করেছেন। আমাদের কাজও অন্য উপজেলার চেয়ে ভালো হয়েছে। স্যার যোগদানের পরে আমাদের উপজেলার চেহারা পাল্টে যাচ্ছে, স্যার যদি কয়েক বছর এখানে কাজ করার সুজোগ পান, তাহলে সালথা উপজেলা একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে উঠবে।

এই বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন বলেন, উন্নয়ন কাজের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। স্বচ্ছ প্রশাসন, টেকসই উন্নয়ন, এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আমি যেখানে কাজ করি প্রতিটি কাজই আমার নিজের কাজ মনে করে করি। খাল খননে যে আমাদের পর্যাপ্ত বরাদ্দ ছিলো। আমরা সরকারি টাকার সদ্য ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। কাজ শেষে বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারই সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি।