পিরোজপুরের কাউখালীতে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীর পুরো এলাকাবাসী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে জনসাধারণ, ছাত্রছাত্রীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে।
কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ফলইবুনিয়া গ্রামের কাছারি বাড়ির খালের মোহনায় পাংগাশিয়া খালের উপর নির্মিত বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে তৈরি সাঁকো খালের ভেতরে ভেঙে পড়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল মোল্লা সাঁকো এলাকা পরিদর্শন করে বলেন,
সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সাঁকোটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
সাঁকোটি ওই এলাকার যোগাযোগের অন্যতম মধ্যম ছিল। কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কারের না হওয়ায় সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি নিম্নচাপ শক্তির প্রভাবে অতিরিক্ত পানির চাপে সাঁকোটির মাঝের অংশ ভেঙে পানিতে ভেসে যায়। বিকল্প পথ না থাকায় মানুষ পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এখন নৌকার দিয়ে সাধারণ মানুষ খাল পার হচ্ছে।
কাউখালীর-বেকুটিয়া নতুন বাজার থেকে ফলইবুনিয়া, জোলাগাতী, তালুকদার হাট, হাওলাদার হাটসহ জোলাগাতী ফাজিল মাদরাসা, জোলাগাতি, হাই স্কুল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে খালের দক্ষিণ পারে। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই সাঁকো না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। এই এলাকার অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীদের সাঁকো না থাকায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার জন্য যেতে হয়।
এছাড়া দক্ষিণ পাড়ে শিশুদের জন্য রয়েছে নুরানি মাদরাসা, হেফজখানা ও ছাত্রাবাস। খালের দক্ষিণ পাড়ের লোকজনকে কলেজ উপজেলা ও জেলা সদরে যেতে হলে এই সাঁকোটি তাদের একমাত্র ভরসা। বেকুটিয়া সেতু পশ্চিম পাড়ে পিরোজপুর জেলা শহর এবং পূর্ব পাড়ে কাউখালী উপজেলা পরিষদ কাউখালী থানা, কলেজ, হাসপাতাল অবস্থিত। অথচ এই খালে বাঁশের সাঁকো অপসারণ করে সেতুর দাবিতে মানববন্ধন, স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
স্থানীয় ফলইবুনিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, পাংগাশিয়া খাল পারাপারের জন্য এই স্থান থেকে খালের পশ্চিম দিকে তিন কিলোমিটার দূরে পাংগাশিয়া বাজারের সেতু এবং পূর্বদিকে দুই কিলোমিটার দূরে বেলতলা সেতু ছাড়া পারাপারের জন্য বিকল্প কোনো সেতু না থাকায় এই সাঁকোই ছিল মানুষের শেষ ভরসা। যে কারণে স্থানীয়দের জরুরি প্রয়োজনে নিজেরা গ্রাম থেকে বাঁশ, সুপারি গাছ সংগ্রহ করে ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দীর্ঘ বছর সাঁকোটি টিকিয়ে রেখেছিল।
স্থানীয় মাদরাসা ও মসজিদের পরিচালক মাওলানা মো: মানিক বলেন, বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ধরনা দিয়েও স্থায়ীভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা করা যায়নি।
উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মো: ইমতিয়াজ হোসেন জানান, ‘নতুন সেতু নির্মাণের জন্য কোনো পরিকল্পনা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের জানা নাই। তবে নতুন সেতু নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী সিদ্দিকুর রহমান জানান, ‘এই সাঁকোটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা সমন্বয় মিটিংসহ বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও স্থায়ীভাবে কোনো সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করতে পারিনি।’