রংপুর জেলা স্কুল মাঠে জামায়াতের জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে জনসভা। জনসভাকে নির্বিঘ্ন করতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার ফজরের নামাজের পর থেকেই জেলা স্কুল মাঠে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। প্রস্তুত মঞ্চসহ পুরো মাঠ। পুরো নগরী জুড়ে গেট, বিলবোর্ড, ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। ১২০টি মাইক ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ৬০টি এলইডিমনিটর দেয়া হয়েছে।

জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সদ্য কারামুক্ত নির্বাহী সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাবেক এমপি ও নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবর রহমান, শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তর আমির মো: সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল ছাড়াও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, এদিন বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে জনসভার কার্যক্রম। জনসভায় নিরাপত্তা দিতে সকল ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো: মজিদ আলী জানান, যেহেতু দীর্ঘ ১৭ বছর পর জামায়াত একটি জনসভা করছে। সে কারণে এখানে বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী উপস্থিত হবে। বিষয়টি মাথায় রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের বন্দোবস্ত করেছি আমরা। পোশাকী-অপোশাকী মহানগর পুলিশ ছাড়াও পুরো নগরীতে শতাধিক অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী বাড়তি টহল দিচ্ছে।

তিনি জানান, আমরা জামায়াতের সাথে নিরাপত্তা এবং যানজটের বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় মিটিং করেছি। তারা আমাদের পরামর্শগুলো শুনেছেন। আশা করি, একটি সুন্দর সুশৃঙ্খল মিটিং হবে। নগরীতে যাতে যানজট তৈরি না হয় সেজন্য নগরীতে যাতে যানজট তৈরি না হয় সেজন্য পশ্চিম-উত্তর প্রান্তে টার্মিনাল, সিও বাজার এলাকার জিয়া হোস্টেল মাঠ এবং পূর্ব প্রান্তে খাসবাগ মাঠে গাড়ি পাকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের পর নেতাকর্মীরা মাঠের দিকে হেটে আসবেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

রংপুর মহানগর জামায়াত আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙখলা বাহিনীর নিরাপত্তাবলায় ছাড়াও জামায়াত এক হাজার ২৫০ জন নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক মাঠে আছে। যেহেতু জনসভাস্থলে অনেকেই যেতে পারবেন না। তাদের সুবিধার্থে পুরো নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৬০টি এলইডি মনিটর দেয়া হয়েছে। সেখান থেকেও তারা জনসভাটি দেখতে ও শুনতে পাবেন।

তিনি জানান, আমারা আশা করছি, দুই লাখেরও বেশি নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ উপস্থিত হবেন জনসভায়।

উল্লেখ্য, ১৭ বছর পর প্রকাশ্যে এই জনসভা রংপুরে করছে জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি।