রাজবাড়ীতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে একটি বড় অংশের সমস্যা হলো চোখের অসুখ। কিন্তু জেলার কোনো সরকারি হাসপাতালে নেই চোখের ডাক্তার।
ফলে চোখের যেকোনো সমস্যাজনিত কারণে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে। এতে করে অর্থের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। তবে এ জেলায় প্রাইভেট কোনো চক্ষু ক্লিনিকও নাই।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার মানুষের চিকিৎসার জন্য ১০০ শয্যাবিশিষ্ট রাজবাড়ী সদর হাসপাতালটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। এই হাসপাতালে দু’জন চোখের ডাক্তার ছিলেন। হাসপাতালটিতে প্রতি মাসে গড়ে দু’ শ’ জনের চোখের বিভিন্ন ধরনের অপারেশন করা হতো। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তারা দু’জনই একসাথে বদলি হয়ে চলে যান। তারপর থেকেই হাসপাতালটি চোখের ডাক্তারবিহীন রয়েছে। বন্ধ রয়েছে রোগীদের চোখের চিকিৎসা।
এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আওতায় পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনোটিতেই চোখের ডাক্তার নেই।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় চক্ষু কনসালটেন্টের কক্ষে তালা ঝুলছে। ফলে রোগীরা বাধ্য ও হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
রোববার (২৯ জুন) সরেজমিনে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী পৌর এলাকার ভাজনচালা গ্রামের বাসিন্দা লোকমান হোসেন চোখের সমস্যা নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এসেছেন। টিকিট কাউন্টারে টিটিক চাইলে কাউন্টার থেকে বলা হয় চোখের ডাক্তার নেই। তিনি বলেন, ‘আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। তাই ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। কিন্তু হাসপাতালে ডাক্তার নেই। এখন বাইরে থেকে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক থেকে চোখ দেখাতে হবে। ক্লিনিকে একবার ডাক্তার দেখাতে শুধু ৮০০ টাকা ফি দিতে হয়। এখন আমি এত টাকা কই পাব।’
সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মতিন মোল্লা বলেন, ‘কাজ করার সময় আমার চোখে লোহা ঢুকে রক্ত জমে গিয়েছিল। প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যাই। সেখানো কোনো ডাক্তার পাই নাই। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চোখের ডাক্তার দেখাই। প্রথমবার ডাক্তারকে দেখাতেই আমাকে ৮০০ টাকা পরামর্শ ফি দিতে হয়েছে। ওষুধপত্র মিলিয়ে আমার প্রায় দেড় হাজার টাকা লেগেছে। এক সপ্তাহ পর আবারো আমাকে যেতে বলেছে। হাসপাতালে ডাক্তার থাকলে আমাকে এত টাকা দিতে হতো না।’
পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: এবাদত হোসেন বলেন, ‘কমপ্লেক্সে চোখের ডাক্তারের পদটি শূন্য রয়েছে। চক্ষু রোগীদের জন্য কমপ্লেক্সে একটি ‘কমিউনিটি আই কর্ণার’ রয়েছে। সেখানে চক্ষু রোগীদেরকে সেবা দেয়া হয়। প্রয়োজন হলে অনলাইনের মাধ্যমে এ সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।’
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আব্দুল হান্নান বলেন, ‘হাসপাতালে ১৮ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে চোখের ডাক্তার নেই। এতে রোগীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষটি জানিয়েছি। হাসপাতালে চোখের ডাক্তার খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।’
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ বলেন, ‘জেলায় অনেক চিকিৎসকের পদই শূন্য রয়েছে। তবে অন্যান্য চিকিৎসক থাকলেও চোখের ডাক্তার একেবারেই নেই। এটি খুবই জরুরি সমস্যা। আমরা চিকিৎসকের শূন্যপদ পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। নতুন করে চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হলে এ চিকিৎসক সঙ্কট কেটে যাবে।’