জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর মানসিক ট্রমায় থাকা পুলিশ সদস্যদের মনোবল ফিরিয়ে এনে আত্মবিশ্বাসী, মানবিক ও সংবেদনশীলভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়াতে রাজশাহীতে মনো-সামাজিক পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসাথে বিপদগ্রস্ত ও নির্যাতনের শিকার শিশুদের ভয় না দেখিয়ে আস্থার পরিবেশে যোগাযোগ, কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
বুধবার দিনব্যাপী রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের পিওএম কনফারেন্স রুমে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আরএমপি কমিশনার বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর অনেক পুলিশ সদস্য মানসিকভাবে ট্রমাটাইজড হয়েছেন। তাদের সেই ট্রমা কাটিয়ে মনোবল ফিরিয়ে এনে কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সাথে দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। একজন পুলিশ সদস্য নিজে মানসিকভাবে সুস্থ ও দৃঢ় থাকলে মানুষের পাশে আরো কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারবেন।’
শিশুদের সাথে পুলিশের আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিপদগ্রস্ত বা নির্যাতনের শিকার কোনো শিশু পুলিশের কাছে এলে তার সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ভয় নয়, আস্থা তৈরি করতে হবে। শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারলে সে নিজের কথা সহজে বলতে পারবে এবং প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব হবে। তাই শিশুদের সাথে কাজ করা পুলিশ কর্মকর্তাদের মানবিক, ধৈর্যশীল ও সংবেদনশীল হওয়ার বিকল্প নেই।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুরশিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব প্রশিক্ষক হিসেবে শিশুদের মানসিক বিকাশ, ট্রমার প্রভাব, ভিকটিম শিশুর আচরণগত পরিবর্তন, নিরাপদ যোগাযোগ এবং মনো-সামাজিক সহায়তার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণে শিশু আইন-২০১৩-এর আলোকে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ভিকটিম শিশুর মানসিক অবস্থা বোঝা, ট্রমার প্রভাব মোকাবিলা, কার্যকর যোগাযোগ, কাউন্সেলিং এবং মনো-সামাজিক সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মানসিক চাপ ও ট্রমা মোকাবিলা করে কর্মক্ষেত্রে তা ইতিবাচকভাবে প্রয়োগের বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম।
তিনি জানান, শিশু আইন-২০১৩-এর আলোকে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে থানা নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের সাথে ‘সিটিজেন ভয়েস অ্যান্ড অ্যাকশন’ ইন্টারফেস মিটিংয়ের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে আরএমপির কাশিয়াডাঙ্গা, রাজপাড়া, বোয়ালিয়া, মতিহার, চন্দ্রিমা ও শাহমখদুম থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের কর্মকর্তা, এএসআই, এসআই ও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ৩০ জন এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো: ফারুক হোসেন ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
শিশু আইন-২০১৩-এর আলোকে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ভিকটিম শিশুদের সাথে পুলিশের কার্যকর ও মানবিক যোগাযোগ জোরদার করতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ ও ট্রমা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় মনো-সামাজিক সহায়তার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
এ সময় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নীলু বেগম, প্রোগ্রাম অফিসার ফিলিপ আরিন্দা, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোসা: শারমিন সুরভী আক্তার ও অর্জুন রায়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।