টানা ৬ দিন কাস্টমস কর্মকর্তাদের কলম বিরতির পর বেনাপোল কাস্টমস হাউজে আবারো কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বেনাপোল বন্দরে। স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাস্টমস হাউজ, বন্দর ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে কাজে যোগ দিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাস্টমস হাউজ, বন্দর ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে কাজে যোগ দিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। পণ্যের পরীক্ষণ ও শুল্কায়নের কাজ শুরু হওয়ায় সকাল থেকে কাস্টম ও বন্দরে ভীড় দেখা যাচ্ছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, কয়েকদিনের কাজ সবাই গুছিয়ে নিচ্ছে আগে ভাগে। বুধবার (১৪ মে) থেকে গেল বুধবার পর্যন্ত টানা ছয় দিন কলম বিরতি পালন করে কাস্টমস কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, বুধবার (১৪ মে) থেকে কাস্টমসের কলম বিরতি শুরু হয়। প্রথম দিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত কলম বিরতি চলে। বাকি দিনগুলো তিনটা পর্যন্ত কলম বিরতি পালিত হয়। এর মধ্যে শুক্রবার (১৬ মে) সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। মঙ্গলবার (২০ মে) পুরোপুরি কাজ চলে কিন্তু গেল বুধবার পূর্ণদিবস কলম বিরতি পালিত হয়। কলম বিরতিতে আমদানি-রফতানিসহ মালামাল শুল্কায়ন ও খালাস প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

সাজেদুর বলেন, সাতটি পণ্য রফতানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর যেসব পণ্যবাহী ট্রাক গামেন্টস পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে এসেছিল তারা উপায়ন্তর না পেয়ে মালামাল নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছে। এসব রফতানিকারকের পক্ষে সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট বেনাপোল বন্দরের কাছে আবেদনের মাধ্যমে ট্রাকগুলো ফেরত নিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় কাস্টমসের পক্ষ থেকে ওই দেশের ব্যবসায়ীদের কোনো রকম আশ্বস্ত করতে পারেনি বলে জানান এ পারের রফতানিকারক ব্যবসায়ী ও সিএন্ডএফ এজেন্ট। প্রতিদিন পেট্রাপোল বন্দর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ ট্রাক আসে বেনাপোল বন্দরে। আর বেনাপোল দিয়ে ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক রফতানি পণ্য নিয়ে যায় ভারতে। দেশের ৭৫ ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে।