সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় শনিবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে বেশকিছু এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে টিনের চাল উড়ে গেছে, গাছ উপড়ে পড়েছে। এ সময় গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে পুরো উপজেলাজুড়ে।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঝড় শুরু হয়। প্রায় ২৫ মিনিটের এই ঝড়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার বাংলাবাজার, দোয়ারা সদর ও নরসিংপুর ইউনিয়নে। এতে উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের গাছপালা ও বোরো ধানের জমিতে ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে উপজেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর গাঁও গ্রামের আব্দুল কাদির নামে এক ব্যক্তির টিনের ঘর ঝড়ে ভেঙে গেছে। আব্দুল কাদির জানান, খেটে-খাওয়া দিনমজুর শ্রমিক তিনি। অনেক কষ্টে টিনের এই ঘরটি নির্মাণ করেছেন। তিন সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই দিন কাটছিলো। কিন্তু শনিবারে রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে তার সংসারটা ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। এখন আবার বসতঘর মেরামত করার মতো সামর্থ্য তার নেই।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য, সাংবাদিক মো: মামুন মুন্সির বসতঘরের টিনের চাল ঝড়ে উড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘রাত ২টার এমন ঝড় তুফান এসেছে যা বিগত কয়েক বছর হয়নি। পরিবারকে নিয়ে আতঙ্কে ছিলাম।’
আশপাশের অন্তত ৩০-৩৫টি বসতঘর ভেঙে গেছে বলেও তিনি জানান।
নরসিংপুর ইউনিয়নের আব্দুল কাহার, তেরাব আলী, আসকর, সাইদুর, আমজদ আলীর বসতঘরের টিন উড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা জানান, তাদের আশপাশের অন্তত ৫০টিরও বেশি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতরাতের ঝড়ের চেয়ে বেশি ছিলো ঘূর্ণিঝড়। হঠাৎ তীব্র শব্দ আর বাতাসে ভয়ংকর রুপ ধারণ করে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু বলেন, ঝড়ে উপজেলার কিছু এলাকায় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।